Sunday, 2 August, 2026
2 August
HomeকলকাতাKolkata: ‘ধমকের সংস্কৃতি অতীত, সুরক্ষিত বাংলায় বারবার আসুন’, ‘বিশ সাল বাদ’; লেখিকাকে...

Kolkata: ‘ধমকের সংস্কৃতি অতীত, সুরক্ষিত বাংলায় বারবার আসুন’, ‘বিশ সাল বাদ’; লেখিকাকে স্বাগত মুখ্যমন্ত্রীর

বিশ বছরের অলিখিত নির্বাসনের শিকল ছিঁড়ে অবশেষে নিজের ভালোবাসার শহর কলকাতায় ফিরলেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কলকাতা:

বিশ বছরের অলিখিত নির্বাসনের শিকল ছিঁড়ে অবশেষে নিজের ভালোবাসার শহর কলকাতায় ফিরলেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। শনিবার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে লেখিকাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সংবর্ধনা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

২০০৭ সালের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের আলোয় তসলিমা নাসরিনের এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও সাহিত্য মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ প্রত্যাবর্তনের মাস; দীর্ঘ ১৯ বছরের নির্বাসন শেষে কলকাতায় তসলিমা

রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে বঙ্গীয় অভ্যর্থনা

এদিন কবিতা পাঠের বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে উপস্থিত হয়ে তসলিমা নাসরিনকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি এবং ‘বন্দে মাতরম্’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে তৈরি বিশেষ স্মারক লেখিকার হাতে তুলে দেন তিনি।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন:

“আপনি একজন প্রখ্যাত লেখিকা, অগুণতি মানুষ আপনার লেখা পড়েন, আপনার অনুরাগীর সংখ্যাও বিপুল। আপনি পশ্চিমবঙ্গে সানন্দে আপনার বক্তব্য রাখুন। এই নতুন বাংলা নিশ্চিতভাবেই আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতার থেকে আলাদা।”

‘দেখে নেব-আটকে দেব সংস্কৃতি অতীত’: শুভেন্দু

বিগত বাম জমানা এবং পরবর্তী শাসনব্যবস্থায় তসলিমা নাসরিনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ির প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সরকারের নীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের পার্থক্য স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিগত অধ্যায়ের স্মৃতি উস্কে তিনি জানান:

২০০৭ সালের প্রেক্ষাপট:

২০০৭ সালে তসলিমার আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় যে অশান্তি হয়েছিল, তৎকালীন বাম সরকার তা সামাল দিতে বই নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী নামায় এবং তসলিমাকে রাতারাতি শহর ছাড়তে বাধ্য করে।

২০১১ সালে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও সেই ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’ বহাল রাখা হয়েছিল। বিগত জমানার এই সংস্কৃতিকে অতীত আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হলো—নতুন সরকারের হাতে এই বাংলার রাজ্য সংবিধান, গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। ‘দেখে নেব’, ‘ধমক-চমক’ কিংবা ‘আটকে দেব’—এই সব সংস্কৃতি এখন অতীত। পশ্চিমবঙ্গ আজ শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত। এখানে সবার আসার অধিকার রয়েছে, সবার নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে।”

নিরাপত্তার পূর্ণ আশ্বাস রাজ্য সরকারের

লেখিকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আশঙ্কা ও সংশয় দূর করে রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে পূর্ণ সুরক্ষার আশ্বাস দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তসলিমা নাসরিন যখনই চাইবেন, সম্পূর্ণ নিঃসংকোচে এই বাংলায় আসতে পারেন।

সুরক্ষার দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, “এই সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে যাবতীয় নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্যে শুধু সরকারের মুখের পরিবর্তন ঘটেনি, ব্যবস্থারও মূলগত পরিবর্তন হয়েছে।”

দীর্ঘ সময় পর রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কাছ থেকে এই ধরণের অভয়বার্তা ও সম্মান পাওয়ার পর তসলিমা নাসরিনের এই প্রত্যাবর্তন সাহিত্য ও চিন্তাশীল মহলে বাক্‌স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন