নয়াদিল্লি:
মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের বাজেটে ফের নতুন করে কোপ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এক ধাক্কায় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম প্রতিটিতে প্রায় ১৮ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। মূলত দেশে রান্নার গ্যাস (LPG) ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (Natural Gas) ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে ৪২ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল জাতীয় ‘কৌশলগত জ্বালানি মজুত’ (Strategic Fuel Reserve) গড়ে তোলার প্রস্তাব বিবেচনা করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়টার্সের সূত্রের বরাতে এই খবরটি সামনে আসার পরই সাধারণ গ্রাহকদের উদ্বেগে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপল মালদহের কালিয়াচক; ঝলসে গেল ৭ জন
হঠাৎ কেন এই নতুন জ্বালানি নীতি?
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল তীব্র সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে এবং ভারতের আমদানি খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতির শিক্ষা থেকেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক দশক মেয়াদী এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে:
-
কৌশলগত পণ্যের পরিধি বৃদ্ধি: এযাবৎ কেবল অপরিশোধিত তেল (Crude Oil)-কে কৌশলগত মজুতের আওতায় রাখা হতো। তবে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এই প্রথম ভারতের স্থায়ী কৌশলগত মজুত কর্মসূচিতে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং রান্নার গ্যাস (LPG)-কেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
-
মজুতের লক্ষ্যমাত্রা: পরিকল্পনা অনুযোগী, ভারতের কাছে আগামীতে একযোগে ২ মাসের চাহিদা মেটানোর মতো অপরিশোধিত তেল ও LNG এবং প্রায় ৬ সপ্তাহের চাহিদা মেটানোর মতো LPG গচ্ছিত রাখার পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।
দাম কতটা বাড়তে পারে ও কত রাজস্ব মিলবে?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক থেকে পাওয়া সূত্রের দাবি অনুযায়ী শুল্কের হিসেবটি নিম্নরূপ:
| জ্বালানির ধরন | প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক | গ্রাহকের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব | আনুমানিক বার্ষিক রাজস্ব |
| রান্নার গ্যাস (LPG) | ₹১.২৯ / প্রতি কেজি | ১৪.২ কেজির প্রতি সিলিন্ডারে ~১৮ টাকা বৃদ্ধি | $৪৬০ মিলিয়ন (প্রায়) |
| প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas) | ₹১.৪৩ / প্রতি SCM | পাইপলাইনের গ্যাস ও শিল্প ব্যবহারের খরচ বাড়বে | $১ বিলিয়ন (প্রায়) |
দুই ক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত শুল্ক থেকে বছরে মোট প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রাহকদের দেওয়া টাকায় তৈরি হবে ভাণ্ডার
আগামী ১০ বছরে এই বিশাল ৪২ বিলিয়ন ডলার প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। এই মোট ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি টাকা খরচ হবে আধুনিক আধুনিক সংরক্ষণাগার বা স্টোরেজ ট্যাঙ্ক তৈরিতে এবং বাকি টাকা ব্যবহার করা হবে জ্বালানি ক্রয় করে গচ্ছিত রাখতে।
-
অর্থায়নের ধরণ: কৌশলগত অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার গড়ার খরচ আগের মতোই বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে নতুন করে গ্যাস ও এলপিজি সংরক্ষণাগার তৈরির মূল তহবিল আসবে গ্রাহকদের থেকে আদায় করা এই অতিরিক্ত শুল্কের মাধ্যমে।
-
গ্যাসের বিলে প্রভাব: এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সাধারণ গৃহস্থের মাসিক গ্যাসের বিল গড়ে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ এই না হলে বাংলাদেশ! নজিরবিহীন হামলার মুখে শাকিব
প্রস্তাবের বর্তমান অবস্থান
সূত্রের খবর, এই প্রস্তাবটি বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে বিচার-বিবেচনা ও আন্তঃমন্ত্রক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা (Cabinet) থেকে এখনও এতে চূড়ান্ত সিলমোহর বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে অনুমোদন মেবামাত্রই নতুন দাম সারা দেশে কার্যকর করা হতে পারে।


