রাজনীতির অমোঘ নিয়মে ক্ষমতায় থাকা এবং হারানো স্বাভাবিক ঘটনা। তবে ক্ষমতার শীর্ষ ছুঁয়েও একান্ত নিঃসঙ্গতা ও সাদামাটা জীবন যাপনে নিজের আদর্শ আগলে রাখা নেতাদের সংখ্যা আধুনিক ইতিহাসে বিরল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছিলেন সেই বিরল ব্যতিক্রম।
আরও পড়ুনঃ সৃজিতের নতুন ছবি ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’; গুপী গাইন বাঘা বাইন-এর অবিশ্বাস্য গল্প
শৈলেন্দ্র সরকার স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২-এর অস্থির রাজনীতির সময় তিনি রাজ্যের যুব আন্দোলন ও বামফ্রন্টের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। ১৯৭৭ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে রাজ্যের প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী হন।
১৯৯৩ সালে জ্যোতি বসুর মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি নন্দনের ছোট ফ্ল্যাটে ফিরে যান। সিনেমা, সাহিত্য ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়ই ছিল তার আশ্রয়। ২০০০ সালে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার বন্যায় সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন ভূমিকায় দেখা দেন।
বুদ্ধদেবের শাসনকালে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান ছিল প্রধান লক্ষ্য। কৃষি ও শিল্পের সমন্বয়ে রাজ্যকে আধুনিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সিঙ্গুর ন্যানো প্রকল্পে বিতর্ক ও ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপের মুখে ২০১১ সালে ক্ষমতা হারান।
শেষ দশক তিনি জনসমক্ষে না এসে গৃহবন্দী জীবন কাটান। ৮ অগাস্ট ২০২৪ সালে তিনি প্রয়াত হন। পদ্মভূষণ সম্মান প্রত্যাখ্যান করে তিনি সততা ও আদর্শের প্রতীক হয়ে থাকলেন।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে সাধারণ ফ্ল্যাটে, যেখানে ছিল পুরনো স্মৃতি ও পরিবার-বন্ধুদের ছবি। রাজনীতিতে সাফল্য কেমন ছিল, ইতিহাস বিচার করবে, তবে তার সততা ও আদর্শের রাজনীতি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


