Wednesday, 23 September, 2026
23 September
HomeদেশEC: কমিশনারদের ‘মতানৈক্য’ প্রকাশ্যে আসতেই জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবি বিরোধীদের

EC: কমিশনারদের ‘মতানৈক্য’ প্রকাশ্যে আসতেই জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবি বিরোধীদের

পুরো বিরোধী শিবির জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ, আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্ত এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সমস্ত নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার গলদ প্রকাশ্যে আসতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার তাঁদেরকে অন্ধকারে রেখে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীবাল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দেশের পুরো বিরোধী শিবির জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ, আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্ত এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সমস্ত নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লির নির্বাচন সদনের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, মতবিরোধ কমিশনের স্বাভাবিক কাজের অঙ্গ এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়। তবে কমিশনের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ বিরোধী দলগুলি।

আরও পড়ুনঃ  নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তীব্র নজিরবিহীন মতবিরোধ! ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি দুই নির্বাচন কমিশনারের

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অন্তর্তদন্ত ও বিস্ফোরক অভিযোগ

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে দুই নির্বাচন কমিশনার সঁধু এবং জোশীকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে যে, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন একতরফা সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। এমনকি এক দিনেই ৪ বার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তাঁদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

বিষয়ের ক্ষেত্র কমিশনারদের অভিযোগ ও আইটি বিভাগের ভূমিকা
সিদ্ধান্ত গ্রহণে একচ্ছত্রতা দুই কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পাস ও নির্দেশিকা জারির অভিযোগ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে।
ভোটার তালিকায় নিয়ন্ত্রণ ‘ইআরওনেট’ (ERONET) থেকে ‘ইসিআইনেট’ (ECINET)-এ রূপান্তরের পর নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ERO) ক্ষমতা হ্রাস করা হয়েছে।
আইটি প্রধানের ভূমিকা কমিশনের আইটি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যা আইনত অনুচিত বলে দাবি কমিশনারদের।

জ্ঞানেশকে বরখাস্ত ও ভোটের দাবিতে সরব বিরোধী নেতৃত্ব

অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিরোধী নেতারা:

  • রাহুল গান্ধী (লোকসভার বিরোধী দলনেতা): সমাজমাধ্যমে এক বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ভোটচুরি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধ এবং সংবিধানে সরাসরি আক্রমণ। বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশন এর উদ্যোক্তা। এই দেশদ্রোহিতার জন্য কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল কংগ্রেস): সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবিলম্বে বরখাস্ত ও সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের দাবি তুলেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, গত ডিসেম্বরেই তিনি আইটি প্রধান সীমা খন্নার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা আজ দুই কমিশনারের বয়ানে সত্য প্রমাণিত হলো।

  • অরবিন্দ কেজরীবাল (আপ): মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দেশের সমস্ত সাম্প্রতিক নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানান।

  • উদ্ধব ঠাকরে ও কপিল সিব্বল: শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরে মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে ব্যালট পেপারে পুনরায় নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  আংটি রহস্য; মোসাদের আড়িপাতার প্রযুক্তি! ‘শামা হাকোল’ ঘিরে নেটদুনিয়ায় শোরগোল

বিতর্ক ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নির্বাচন কমিশনের

বিতর্কের মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তিন সদস্যের সংস্থায় ভিন্ন মতামত থাকা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এই ধরনের আলোচনা বা আপত্তি জানানো কমিশনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর-সহ প্রায় ৪০টি নতুন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত তিন কমিশনারের (ফুল বেঞ্চ) সর্বসম্মত অণুমোদনের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। ফলে কতিপয় অভ্যন্তরীণ নোটকে আলাদাভাবে তুলে ধরে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে কমিশন দাবি করেছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন