ভয়ের কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই, কিন্তু কিছু জায়গা আছে যেখানে অতীতের যন্ত্রণা আর অলৌকিকতার ছোঁয়া মিশে এক অদ্ভুত মায়াজালে গড়ে ওঠে। অমাবস্যার রাতে সেইসব মায়াভূমিতে পা রাখলে এক অন্যরকম রোমাঞ্চের মুখোমুখি হতে হয়। যদি ভূত-প্রেত নিয়ে আগ্রহ থাকে, তবে পশ্চিমবঙ্গের এই তিনটি গ্রাম দেখতে ভুলবেন না।
আরও পড়ুনঃ ফিরল স্মৃতি! নজিরবিহীন ‘মেঘভাঙা বৃষ্টিতে’ বিপর্যস্ত তিলোত্তমা
১. বাঁকুড়ার চালিবাড়িরডিহি
এক সময়ে জমজমাট গ্রাম চালিবাড়িরডিহি মহামারির কবলে পড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। আশির দশকে লক্ষ্মণ বাউরি নামের এক ব্যক্তি পুনর্বাসন শুরু করেন। কিন্তু দশ বছর আগের এক শিশুহত্যার ঘটনায় ফের সেই অতীতের অভিশাপ ফিরে আসে। আজ গ্রামে বাস করেন শুধু লক্ষ্মণ বাউরি ও তাঁর পরিবার। সন্ধ্যার পর নীরবতা আর ফিসফিসানি ছায়াশরীরদের আনাগোনা যেন থামেনা এখানে।
কীভাবে যাবেন: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বাঁকুড়া স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে বাস বা প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে ছাতনা বা চালিবাড়িরডিহি গ্রামে পৌঁছাতে পারবেন।
২. বীরভূমের কঙ্কালীতলা রোড
সতীপীঠ কঙ্কালীতলার আশপাশের পুরনো শ্মশান ও পরিত্যক্ত রাস্তা নিয়ে নানা ভুতুড়ে গল্প প্রচলিত। রাত বাড়লেই অস্পষ্ট ছায়াশরীরেরা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। গভীর রাতে ভেসে আসে নূপুরের ঝিনিঝিনি শব্দ, আর অতৃপ্ত আত্মাদের দীর্ঘশ্বাস স্পষ্ট শোনা যায়।
কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে বোলপুর-শান্তিনিকেতন স্টেশনে নামুন। স্টেশন থেকে অটো, টোটো বা ক্যাব নিয়ে শ্মশান এলাকায় সহজেই যাওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ পরিস্থিতি; ৭.৪ মাত্রার ভয়ংকর ভূমিকম্প কলম্বিয়ায়
৩. বর্ধমানের বেগমপুর ও নীলকুঠি
পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের সীমান্তে অবস্থিত বেগমপুর এবং কালনার পুরোনো নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষে ব্রিটিশ আমলের অলৌকিক নিস্তব্ধতা আজও জেগে থাকে। অনেকেই দাবি করেন, অমাবস্যার রাতে কুঠির থেকে আর্তনাদ ও কান্নার শব্দ শোনা যায়। দূর থেকেও দেখা মেলে অশরীরী অবয়ব।
কীভাবে যাবেন: হাওড়া বা ব্যান্ডেল থেকে কালনা স্টেশনে নামুন। কালনা থেকে টোটো বা গাড়ি নিয়ে বেগমপুর ও নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষে যাওয়া যায়।


