Saturday, 15 August, 2026
15 August
Homeআন্তর্জাতিক নিউজMars: লালমাটিতে ‘গুপ্তধনে’; রত্নপাথরের দুর্লভ খনিজ, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

Mars: লালমাটিতে ‘গুপ্তধনে’; রত্নপাথরের দুর্লভ খনিজ, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

পৃথিবী এবং চাঁদেও অতীতে এই ধরনের মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে তৈরি পাথরে করান্ডাম পাওয়া গিয়েছিল।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) ‘পারসিভারেন্স’ (Perseverance) রোভারের মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহে ধরা পড়ল এক অবিশ্বাস্য আবিষ্কার। মঙ্গলের জেজ়েরো ক্রেটার (Jezero Crater) এলাকার পাথর বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সন্ধান পেয়েছেন ‘করান্ডাম’ (Corundum) নামক এক অত্যন্ত মূল্যবান খনিজের। পৃথিবীর বুকে যা চুনি (Ruby) এবং নীলকান্তমণির (Sapphire) মতো রত্নপাথর তৈরিতে মূল ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুনঃ 2026 – 1947 = 79; ২০২৬-এর স্বাধীনতা দিবস ৭৯ নাকি ৮০তম?

১. কীভাবে মিলল এই খনিজের হদিস?

  • অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু: ২০২১ সালে মঙ্গলের ৪৫ কিলোমিটার চওড়া ‘জেজ়েরো ক্রেটার’-এ পারসিভারেন্স রোভার নামায় নাসা। ২০২৫ সালে সেখানকার কিছু ফ্যাকাশে রঙের নুড়িপাথরে লেজ়ার রশ্মি প্রয়োগ করে পরীক্ষা চালানো হয়।

  • সুপারক্যাম প্রযুক্তি: নিউ মেক্সিকোর ‘লস অ্যালামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি’-র ভূ-রসায়নবিদ অ্যান ওলিলা (Ann Ollila)-র নেতৃত্বে বিজ্ঞানীদের একটি দল সুপারক্যাম (SuperCam) বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনটি পাথরের ওপর ক্রোমিয়ামযুক্ত করান্ডামের স্পষ্ট উপস্থিতি দেখতে পান।

  • প্রকাশিত গবেষণা: এই বিস্ময়কর আবিষ্কারের সংক্রান্ত বিশদ গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা ‘জিয়োফিজ়িক্যাল রিসার্চ লেটার্‌স’ (Geophysical Research Letters)-এ প্রকাশিত হয়েছে।

২. কেন এই আবিষ্কার এত চমকপ্রদ ও জটিল?

মঙ্গলে করান্ডামের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ছিল, কারণ:

  • জটিল গঠন পরিবেশ: করান্ডাম তৈরির জন্য এমন একটি পরিবেশের প্রয়োজন যেখানে অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে কিন্তু সিলিকন থাকে খুব কম। এর সঙ্গে প্রয়োজন অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা।

  • মঙ্গলের ভূপ্রকৃতি: লালগ্রহে উচ্চ তাপমাত্রা বা ভূ-তাপীয় শক্তি থাকলেও সিলিকন-কম এবং অ্যালুমিনিয়াম-বেশি থাকা পরিবেশের সহাবস্থান অত্যন্ত বিরল।

  • পৃথিবীর চুনির সঙ্গে মিল: চুনিকে তার লালচে-গোলাপী আভা এনে দেয় ক্রোমিয়াম (Chromium)। মঙ্গলে প্রাপ্ত করান্ডামেও ক্রোমিয়ামের অস্তিত্ব মেলায় পৃথিবীর মূল্যবান রত্নগুলির সঙ্গে এর সঙ্কেতের আশ্চর্য মিল পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ সমুদ্রে তোলপাড়! ভয়াবহ ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ায়

৩. মঙ্গলে কীভাবে তৈরি হলো করান্ডাম?

বিজ্ঞানীরা এই খনিজের উৎপত্তি নিয়ে মূল একটি তত্ত্ব তুলে ধরেছেন:

মহাজাগতিক সংঘর্ষ ও ভূতাত্ত্বিক চাপ: কোটি কোটি বছর আগে কোনো বিশাল মহাজাগতিক বস্তুর প্রবল আঘাতের (Impact) ফলেই তৈরি হয়েছিল জেজ়েরো ক্রেটার। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রচণ্ড সংঘর্ষের কারণে সৃষ্টি হওয়া মারাত্মক চাপ ও উত্তাপে ভূত্বকের গভীরে রূপান্তরিত খনিজ (Metamorphic minerals) তৈরি হয়। একই সঙ্গে উত্তপ্ত জল বা তরল পদার্থ পাথরের ফাটল দিয়ে চলাচলের সময় সেখানে করান্ডাম গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছিল।

পৃথিবী এবং চাঁদেও অতীতে এই ধরনের মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে তৈরি পাথরে করান্ডাম পাওয়া গিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো লালগ্রহ মঙ্গল। তবে এটি প্রক্রিয়াজাত রত্নপাথর হিসেবে নয়, বরং শিলাখণ্ডের ভেতরে অনুবিক্ষণীয় রাসায়নিক উপাদান বা খনিজ হিসেবে আটকে রয়েছে। মঙ্গলের ওই পাথরের নমুনা ভবিষ্যতে পৃথিবীতে নিয়ে আসা সম্ভব হলে মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন