তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতকে সমৃদ্ধ করা প্রবীণ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক রাজা সেন ৭০ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। সম্প্রতি পর পর দু’বার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী পাপিয়া সেন, দুই কন্যা শুভশ্রী ও শ্রেয়সী এবং দুই নাতনিকে রেখে গেছেন।
আরও পড়ুনঃ কোভিডে মৃত্যু! প্রাণ গেল দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপারের
শারীরিক অসুস্থতার নেপথ্য ইতিহাস
-
চোট ও পুরনো ব্যাধি: বছর খানেক আগে ‘মায়ামৃদঙ্গ’ ছবির শুটিং সেটে পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে চোটের অবহেলা এবং তাঁর প্রায় এক দশক পুরনো শারীরিক সমস্যা নতুন করে জটিল আকার ধারণ করে।
-
অস্ত্রোপচার: হাঁটতে তীব্র কষ্টের কারণে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর একটি জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সাময়িকভাবে স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হলেও হৃদরোগের ধাক্কা তিনি সামলে উঠতে পারেননি।
বাংলা চলচ্চিত্রে অবদান ও ঝুলিতে ৩টি জাতীয় পুরস্কার
চিত্রপরিচালক হিসেবে রাজা সেন জীবনের বিভিন্ন সময়ে ৩টি মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিলেন:
১. ১৯৯৩: কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সুচিত্রা মিত্রকে নিয়ে নির্মিত অসাধারণ তথ্যচিত্রের জন্য। ২. ১৯৯৬ (দামু): কালজয়ী শিশুচলচ্চিত্র ‘দামু’-র জন্য সেরা শিশুচলচ্চিত্রের জাতীয় পুরস্কার। ৩. ১৯৯৯ (আত্মীয় স্বজন): সেরা পারিবারিক সিনেমা ক্যাটাগরিতে জাতীয় সম্মান।
আরও পড়ুনঃ “সবাইকে ডাকো, শূয়*রের…”; বাম আমলে ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ‘মাষ্টারমশাই!’ আশিস বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের মুখের ভাষা
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি ও তারাকাসমাবেশ
-
চলচ্চিত্র: ‘চক্রব্যূহ’, ‘দেবীপক্ষ’, ‘তিনমূর্তি’, ‘মৌবনে আজ’, ‘কর্নেল’ এবং ২০১৯-এর ‘ভালবাসার গল্প’।
-
তারকাদের বাংলা ছবিতে আত্মপ্রকাশ: তাঁর পরিচালিত ‘দেশ’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন জয়া বচ্চন ও অভিষেক বচ্চন। ২০১০ সালের ‘ল্যাবরেটরি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডের রবিনা ট্যান্ডন প্রথম বাংলা সিনেমায় কাজ করেন। সুপারস্টার জিতের প্রথম অফ-বিট ধারার সিনেমা ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’-এর পরিচালকও ছিলেন তিনি।
-
টেলিভিশন ও তথ্যচিত্র: ছোটপর্দায় সাহিত্যনির্ভর কাজকে জনপ্রিয় করতে তাঁর ভূমিকা অনন্য। ১৯৯৭ সালের বিখ্যাত ধারাবাহিক ‘সুবর্ণলতা’ ছাড়াও ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’, ‘আরোগ্য নিকেতন’ ও ‘দেশ আমার দেশ’ আজও দর্শকের মনে অমলিন। এছাড়া তপন সিনহা, শম্ভু মিত্র ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের নিয়ে তৈরি তাঁর কালজয়ী তথ্যচিত্রগুলি বাংলা সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।
‘দামু’-র সেই রঙিন যাত্রার কারিগরের প্রয়াণে বাংলা বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।


