উপগ্রহ চিত্রে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের উপর অত্যন্ত শক্তিশালী মেঘপুঞ্জের উপস্থিতি নজরে এসেছে। উত্তর ২৪ পরগনার উপর অবস্থানরত নিম্নচাপের প্রভাবে এই বিশাল মেঘপুঞ্জ আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
সারাদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির আশঙ্কা
মেঘপুঞ্জের উচ্চতা: প্রায় ১২ কিলোমিটার
মেঘশীর্ষের তাপমাত্রা: প্রায় −৮৮°C
কলকাতায় বৃষ্টিপাত ১২০+ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা—ফলে স্থানীয়ভাবে রেকর্ড বৃষ্টির পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংলগ্ন এলাকায় নজর রাখুন। ভারী বৃষ্টির সময় জলমগ্নতা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ তপসিয়া থেকে গ্রেপ্তার ইমরান; কলকাতায় ISI-এর স্লিপার সেলের ছক?
সকাল থেকে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত কলকাতার স্বাভাবিক জনজীবন। বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহন অন্য দিনের তুলনায় ধীর গতিতে চলাচল করছে। শহর এবং শহরতলির কিছু রাস্তায়, বিশেষত নিচু এলাকাগুলিতে জল জমতে শুরু করেছে। তার জেরে সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সোমবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ কালো। টানা বৃষ্টি চলছে। তার জেরে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই জল জমতে শুরু করেছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, ঠনঠনিয়া, কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, দক্ষিণ বেহালা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, গড়িয়াহাট-সহ বেশ কিছু এলাকায় জল জমেছে। টানা বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যে কলকাতার ১৬টি বরোর সব পাম্পিং স্টেশন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় গোড়ালিসমান জল জমে গিয়েছে। একই ছবি দেখা গিয়েছে মধ্য কলকাতার বেশ কিছু এলাকাতেও। জল জমেছে নিকো পার্ক সংলগ্ন রাস্তাতেও। চিংড়িঘাটা থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দিকে যাওয়া গাড়িগুলি তুলনামূলক ধীর গতিতে চলছে। সায়েন্স সিটির দিক থেকে চিংড়িঘাটামুখী পথেও ধীর গতিতে চলছে গাড়ি।
এ দিন সকালে ঠনঠনিয়ার কিছু এলাকায় প্রায় হাঁটু ছুঁইছুঁই জল জমে যায়। তবে পুরসভা সূত্রে খবর, সেখানে জল জমার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আগে থেকেই কাজ চলছিল। পুরসভার ওই কাজের জন্য সেখানে জল জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সূত্রের খবর। এ দিন সকাল থেকে বরো এগ্জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলছেন নিকাশি বিভাগের ডিজি শান্তনু ঘোষ। ইতিমধ্যে পুর আধিকারিকেরাও বেশ কয়েক দফা বৈঠক সেরেছেন। যে যে এলাকায় জল জমেছে, তা পাম্প করে বার করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুর প্রশাসন। তবে বৃষ্টি হতে থাকায় জমা জল এখনও বার করা যায়নি।
আরও পড়ুনঃ ১৪৪ থেকে ২০৯! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের নয়া খসড়া প্রকাশিত হবে শীঘ্রই
দুপুর ১ টা পর্যন্ত কলকাতায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বেলগাছিয়ায় (১০৪ মিলিমিটার)। এ ছাড়া মানিকতলায় ৯১ মিলিমিটার, পাগলাডাঙায় ৯৩ মিলিমিটার, তপসিয়ায় ৮৫ মিলিমিটার, ঠনঠনিয়ায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুপুর ২টোর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কলকাতায় মহাত্মা গাঁধী রোড, বিধান সরণী-সহ বিভিন্ন রাস্তায় বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু অংশে জল জমে আছে। পাতিপুকুর-সহ অন্য আন্ডারপাসগুলিতেও জল জমেছে।
নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে উত্তর হাওড়ার বাবুডাঙা এলাকায় একটি তিনতলা বাড়ির ভিতরের অংশ খসে পড়ে। দুর্ঘটনার জেরে বাড়ির মালিক ভিতরে আটকে পড়েন। পরে দমকলকর্মীরা গিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি গত কয়েক ঘণ্টায় আরও সুস্পষ্ট হয়েছে। সোমবারের মধ্যে তা শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে। তার জেরে সোমবার সকাল থেকেই নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। মঙ্গলবারও ঝড়বৃষ্টি চলবে দক্ষিণের জেলাগুলিতে।


