কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতি ও রাজকীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটায়ে আবারও শুরু হলো জলপাইগুড়ির ঐতিহ্যবাহী বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন মনসা পুজো। চলতি বছরে এই ঐতিহ্যবাহী আরাধনা ৫১৭তম বর্ষে পদার্পণ করল। শাস্ত্রীয় তিথি মেনে আজ শুভ সূচনার মধ্য দিয়ে রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে সাতদিনব্যাপী বিশেষ পুজো ও লোক উৎসবের। এই ঐতিহ্যবাহী আরাধনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র জলপাইগুড়ি শহর ও আশপাশের জেলাগুলিতে উৎসবের আমেজ তুঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ এই সর্পদেবী মনসা কে? মনসার জীবন সংগ্রামের ইতিহাস
রাজকীয় রীতি ও ইতিহাসের শিকড়
বৈকুণ্ঠপুর রাজপরিবারের এই মনসা পুজো কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি উত্তরবঙ্গের ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক। রাজ আমলের সেই নিয়ম ও নিষ্ঠা বজায় রেখেই আজও দেবীর বিগ্রহ ও ঘট স্থাপন করে পুজো শুরু হয়। রাজবাড়ির প্রথা অনুযায়ী, দেবীর আরাধনায় স্থানীয় লোকায়ত রীতিনীতির প্রাধান্য আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু: বিষহরি গান ও রাজবাড়ির মেলা
-
মনমুগ্ধকর বিষহরি গান: এই পুজোর মূল ও প্রধান আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যবাহী ‘বিষহরি গান’ বা পদ্মাপুরাণ গান। পুজো উপলক্ষে আগামী সাতদিন ধরে প্রতি রাতে রাজবাড়ি চত্বরে আয়োজিত হবে এই পালাগানের আসর, যা উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের সমাগম ঘটে।
-
সাতদিনের মেলা: রাজবাড়ির বিশাল প্রাঙ্গণ জুড়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মনসা পুজোর মেলা। মেলায় নানা ধরনের পসরা সাজিয়ে বসেছেন স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুনঃ কেন গ্রাম বাংলায় পালিত হয় মনসা পুজো, এর তাৎপর্য জানেন কি?
শহরের আকাশছোঁয়া উদ্দীপনা
জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে দেবী মনসার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও জনপ্রিয়তা সর্বজনবিদিত। তবে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির আরাধনায় ভক্তদের শ্রদ্ধা ও আবেগ অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়। রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি মোড়ে এখন উৎসবের মেজাজ। পুজো ও মেলাকে কেন্দ্র করে সুরক্ষার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষের তরফে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা।


