তারাপীঠের পর নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন ও প্রাণহানির ঘটনায় ফের রাজ্যের সার্বিক অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। নিচে বিগত বছরগুলিতে রাজ্যে ঘটা কয়েকটি প্রধান অগ্নিকাণ্ডের তালিকা দেওয়া হলো:
আরও পড়ুনঃ তারাপীঠের ছায়া এবার কলকাতায়! সাতসকালে হোটেলে আগুন লেগে ৯ জনের মৃত্যু
-
স্টিফেন কোর্ট অগ্নিকাণ্ড (২৪ মার্চ, ২০১০): মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের স্টিফেন কোর্টে ভয়াবহ আগুনে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। জরুরি নির্গমনের পথ বন্ধ থাকা এবং দমকল দেরিতে পৌঁছানোর কারণে এই বিপর্যয় ঘটে। ঘটনার পর ভবনের সুরক্ষা পর্যালোচনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়।
-
এএমআরআই (AMRI) হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ড (৯ ডিসেম্বর, ২০১১): ঢাকুরিয়ার এএমআরআই হাসপাতালের বেসমেন্টে আগুন লেগে বিষাক্ত ধোঁয়ায় আটকে ৯৩ জন রোগী ও কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
-
সূর্য সেন মার্কেট অগ্নিকাণ্ড (২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩): শিয়ালদহের কাছে ঘিঞ্জি সূর্য সেন বাজারের একটি বহুতলে ভোরে আগুন লেগে ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুনঃ শিউরে ওঠার মতো ছবি; ‘তারাপীঠ মরণফাঁদ’
-
কয়লাঘাট পূর্ব রেল অফিস অগ্নিকাণ্ড (৮ মার্চ, ২০২১): স্ট্র্যান্ড রোডের ১৪ তলা ‘নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিং’-এর ১৩ তলায় আগুন লাগে। উদ্ধারকাজে লিফট ব্যবহার করার পর সেটি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকে পড়ায় ৪ জন দমকলকর্মী, ১ জন পুলিশ অফিসার এবং রেল কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়।
-
বড়বাজার ‘ঋতুরাজ হোটেল’ অগ্নিকাণ্ড (২৯ এপ্রিল, ২০২৫): মেছুয়া এলাকার এই ৬ তলা বাজেট হোটেলের ১ম তলায় আগুন লেগে বিষাক্ত ধোঁয়া সিঁড়ি ও করিডোরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিশুসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
-
কেষ্টপুর অগ্নিকাণ্ড (২৪ জুন, ২০২৫): রবীন্দ্রপল্লিতে একটি আবাসিক বাড়িতে ভোররাতে আগুন লেগে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়।
-
আনন্দপুর গুদাম ও মোমো কারখানা অগ্নিকাণ্ড (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬): নাজিরাবাদে বিনা ফায়ার লাইসেন্সে চলা একটি মোমো কারখানা ও ডেকোরেটর গুদামে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে আটকে পড়ে ২৭ জন শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়।
-
তিলজলা চামড়া কারখানা অগ্নিকাণ্ড (১২ মে, ২০২৬): আবাসিক ভবনে বেআইনিভাবে চলা চামড়ার কারখানায় শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। ধোঁয়া থেকে বাঁচতে বাথরুমে আশ্রয় নেওয়া শ্রমিকদের মধ্যে ২ জনের দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়।


