বাঁকুড়া জেলা প্রতিনিধি:
কালোবাজারি রোখার পর এবার ভেজাল খাবার ও নিম্নমানের স্বাস্থ্যবিধি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল বাঁকুড়া প্রশাসন। বাঁকুড়া শহরের একের পর এক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও রাস্তার ধারের খাবারের দোকানে আচমকা অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট বিভাগ এবং বাঁকুড়া থানার পুলিশ। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাবার তৈরি, ঢাকা না দেওয়া এবং ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে বিক্রেতাদের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সংবাদপত্রের আঙিনায় ৪০ বছরের “নতুন গতি”; লিটল ম্যাগাজিন ও বিকল্প সংবাদমাধ্যমের এক অনন্য ইতিহাস
অভিযানের মূল কারণ ও অভিযোগের ধরন
-
স্বাস্থ্যবিধির অভাব: শহরের আনাচে-কানাচে গজিয়ে ওঠা একাধিক দোকান ও হোটেলে কোনো রকম ঢাকা না দিয়েই খোলা অবস্থায় খাবার ফেলে রাখা হচ্ছিল, যার ওপর মাছি ও ধুলোবালি বসছিল।
-
ক্ষতিকর তেলের ব্যবহার: ডিপ ফ্রাই বা ভাজাভুজি তৈরির ক্ষেত্রে সস্তা ও নিম্নমানের পাম তেল (Palm Oil) ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা মানবদেহের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ছাড়া খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙ ও নিম্নমানের মশলা দেওয়ার অভিযোগও ছিল দীর্ঘদিনের।
আরও পড়ুনঃ ধূপগুড়িতে পারিবারিক বিবাদের জেরে মর্মান্তিক খুন
দোকানিদের আমতা-আমতা উত্তর ও আধিকারিকদের হুঁশিয়ারি
অভিযান চলাকালীন আধিকারিকদের একের পর এক প্রশ্নে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা।
“বাড়িতেও কি খাবার এভাবে আলগা রাখেন? খাবার সবসময় ঢাকা দিয়ে রাখা উচিত,” এক আধিকারিক দোকানদারকে সতর্ক করে একথা বলেন।
অন্য এক দোকানে তেলের মান দেখে আধিকারিকদের বক্তব্য ছিল, “কোন ব্র্যান্ডের তেল ব্যবহার করেন? পাম তেলে ভাজলে তো ক্যান্সার হবে! সর্ষের তেল বা অন্য ভালো ভোজ্য তেল ব্যবহার করুন।”
প্রথম দিন হওয়ায় কোনো দোকানে সরাসরি আর্থিক জরিমানা না করে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তবে এনফোর্সমেন্ট বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তীতে ফের একই অনিয়ম পাওয়া গেলে মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


