বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদন:
রাজ্যের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (প্রাক্তন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’) নিয়ে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে চরম রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ফেসবুক লাইভে এসে মমতার অভিযোগের পর নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে পাল্টা শুভেন্দুর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়ায়। পরবর্তীতে শুভেন্দু সরকারি দফতরে বসে প্রকাশ্যে তাঁকে ‘ঘর থেকে না বের হতে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন—এই অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির কাছে সংবিধান রক্ষার আর্জি জানিয়ে বড় পোস্ট করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্নপূর্ণা যোজনা: বঞ্চনা ও তোষণের দ্বিমুখী তোপ
প্রকল্পের বাস্তবায়নে আর্থিক অনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগে জেলাজুড়ে মহিলাদের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে আসরে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:
-
মমতার অভিযোগ: সোশাল মিডিয়া লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজ্য সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ণ, ধর্ম ও রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ‘বাছাই’ করছে। যারা বাদ পড়েছেন, তৃণমূল তাঁদের পাশে দাঁড়াবে এবং তথ্য সংগ্রহ করবে।
-
শুভেন্দুর পাল্টা দাবি: নবান্নে বসে জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। নিজের বিধানসভার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, মমতার আমলে হিন্দুদের বঞ্চনা করা হলেও এখন ১ কোটি ৪৫ লক্ষেরও বেশি সুফলপ্রাপকের মধ্যে ১৯ লক্ষ ২০ হাজার মুসলিম সম্প্রদায়ের মহিলাও যোগ্য হিসেবে টাকা পাচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ একে চিনি তার ওপর পেঁয়াজের দামে চোখে জল; উৎসবের মুখে জোড়া ধাক্কা
হুমকির অভিযোগ ও সংবিধান নিয়ে মমতার বার্তা
নবান্নের বৈঠক থেকে শুভেন্দু মন্তব্য করেন, “ফেসবুকেই থাকুন… আপনাকে আর রাস্তায় বের হতে হবে না। রাস্তায় আপনি যাতে না বেরোতে পারেন, তার ব্যবস্থাও আমি করব।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই গর্জে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
-
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকে প্রশ্ন: সোশাল মিডিয়ায় মমতা লেখেন, একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বিরোধী দলের নেত্রীর চলাফেরার স্বাধীনতা হরণ করার হুমকি দিচ্ছেন। এটি কি আমাদের সংবিধানের কল্পিত ভারত?
-
আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াই: মমতা স্পষ্ট জানান, স্বৈরাচারের সামনে তিনি মাথা নত করবেন না। ইতিহাস বলে—ক্ষমতা দিয়ে সাময়িক ভয় দেখানো গেলেও, চূড়ান্ত ঔদ্ধত্যের জবাব জনগণই দেয়।
প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ, বকেয়া সরকারি ঋণ ও কেন্দ্রীয় বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই নেতানেত্রীর মধ্যের এই সংঘাত এখন রাজ্য রাজনীতির মূল কেন্দ্রে চলে এসেছে।


