বিশেষ প্রতিনিধি:
পাকিস্তানে বারবার ঘটে চলা সেনা অভ্যুত্থানের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এবার নতুন করে চর্চায় বর্তমান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উত্তরোত্তর ক্ষমতা বৃদ্ধি। একাধিক আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কেবল অর্থনৈতিক সংস্কারই নয়, বরং পাকিস্তানে বড় ধরনের সাংবিধানিক রদবদল আনতে এক বিশাল পরিকাঠামোগত পরিকল্পনার ছক কষা হচ্ছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সেদেশের নীতি নির্ধারণ ও মূল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলিতে সেনার উপস্থিতি সাংবিধানিক আইনি বৈধতা পেয়ে যাবে।
আরও পড়ুনঃ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে গুঁড়িয়ে দিল ভারত
পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু ও সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তন
-
প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেম বা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার: সংসদীয় ব্যবস্থা বদলে তুরস্ক বা মিসরের মডেলে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থার দিকে ঝুঁকার আভাস মিলছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ক্ষমতা খর্ব হয়ে রাষ্ট্রপতি (বর্তমানে আসিফ আলি জারদারি)-র হাতে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে পারে।
-
নতুন প্রদেশ ও প্রশাসনিক সংস্কার: পাকিস্তান জুড়ে নতুন নতুন রাজ্য বা প্রশাসনিক ইউনিট গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্র ও প্রদেশগুলির মধ্যে আর্থিক সম্পদের পুনর্বণ্টন নীতিতে বদল আনার কথা ভাবা হচ্ছে।
-
সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেনার সমান এক্তিয়ার: প্রস্তাবিত পরিকল্পনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো—রাষ্ট্রের যেকোনো বড় জাতীয় বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে সেনাকে সরকারের সমকক্ষ বা সমান ক্ষমতার অধিকারী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ তুমুল সংঘর্ষ, যাদবপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’!
রাজনীতিবিদদের প্রতি সেনার অসন্তোষ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি
মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, শরিফ ও ভুট্টো-জারদারি পরিবারের ধারাবাহিক ‘পরিবারতন্ত্র’ এবং ক্রমাগত দুর্নীতির কারণেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছে সেনাশাসকেরা। সম্প্রতি সেনাপ্রধান মুনির-ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী মহসিন নকভি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেন যে, পাকিস্তানের সরকারি পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধসে গেছে।
১৯৯৯ সালে নওয়াজ শরিফকে গদিচ্যুত করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মুশারফের ক্ষমতা দখলের ইতিহাস এখনো তরতাজা। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী পদে নওয়াজের ভাই শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান পদে আসিম মুনির থাকা অবস্থায়, প্রথাগতভাবে সরকারের পেছনে থাকা সেনা এবার আইনি পথেই রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি হতে চাইছে কি না, সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।


