‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের অত্যন্ত সংবেদনশীল পরমাণু সামরিক কেন্দ্র ‘কিরানা হিলস’-এ ভারতীয় ড্রোনের আছড়ে পড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশার অবসান ঘটালেন প্রাক্তন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান।

সম্প্রতি নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাক ফাউন্ডেশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, ওই স্থানে ড্রোনের আঘাত হানা একেবারেই অনিচ্ছাকৃত একটি ঘটনা ছিল।
আরও পড়ুনঃ চিনির দামে বড় পতন; প্রতি কেজি নেমে এলো ৫৫ টাকায়
কিরানা হিলসের ঘটনা ও প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা
জেনারেল চৌহানের বয়ান অনুযায়ী ঘটনাটির মূল টেকনিক্যাল ও কৌশলগত দিকগুলো নিম্নরূপ:
-
লোইটারিং মিউনিশনের ব্যবহার: অভিযানে লক্ষ্যবস্তু ও রাডার খোঁজার জন্য একটি ‘লোইটারিং মিউনিশন’ (সম্ভবত ইজরায়েলি প্রযুক্তির ‘হারোপ’ ড্রোন) ব্যবহার করা হয়েছিল, যা আকাশে নির্দিষ্ট সময় ঘুরে ঘুরে টার্গেট শনাক্ত করতে পারে।

-
জ্বালানি শেষ হওয়া: ড্রোনটি সারগোধা ও কিরানা হিলসের আকাশে রাডারের সন্ধান করছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মূল টার্গেট খুঁজে না পেয়ে ড্রোনটির জ্বালানি শেষ হয়ে আসে এবং বাধ্য হয়েই তা কিরানা হিলসে আছড়ে পড়ে।
-
অনভিপ্রেত লক্ষ্য: তৎকালীন ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস এয়ার মার্শাল এ কে ভারতীও আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে, কিরানা হিলস ভারতের পূর্বপরিকল্পিত কোনো টার্গেট ছিল না।

আরও পড়ুনঃ ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন? ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’!
অপারেশন সিঁদুর: স্কারদু পরিকল্পনা ও ভোলারি হামলা
বক্তব্যে প্রাক্তন সিডিএস অপারেশন সিঁদুরের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তের বিষয় সামনে আনেন:
| স্থান/ঘাঁটি | ভারতীয় বিমানবাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি |
| স্কারদু (POK) | সারগোধা হামলার পাশাপাশি স্কারদুতেও অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে স্কারদু অভিযান বাতিল করা হয়। |
| ভোলারি এয়ার বেস | স্কারদু অভিযান বাতিল হওয়ায় বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে ভোলারিকে বেছে নেওয়া হয়। ১০ মে গান্ধীনগরভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড ভোলারি এয়ার বেসে অত্যন্ত নিখুঁত হামলা চালায়। |
উপগ্রহ চিত্রে পরবর্তীতে দেখা যায়, ভোলারির একটি প্রধান হ্যাঙ্গারের ছাদে বিরাট গর্ত তৈরি হয়েছে এবং রানওয়ের সংযোগস্থলে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে, যা ভারতের অত্যন্ত নিখুঁত (Precision strike) সামরিক হামলার প্রমাণ দেয়। অন্যদিকে, কিরানা হিলসের ঘটনাটি কেবলই ড্রোনের জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ফলে ঘটেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।


