বিশেষ প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা:
বারাসত জেলা পরিষদ ভবনের ঐতিহ্যবাহী ‘তিতুমীর সভাকক্ষ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’ করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, কেবল নাম বদলই নয়, সভাকক্ষের দেওয়াল থেকে তিতুমীরের ছবি সরিয়ে সেখানে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি টাঙানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিহাসপ্রেমী ও তিতুমীরের বংশধরদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ১ দিনে ৩৫ শিবিরে ১৬০০ ইউনিট সংগ্রহ! রক্ত দুর্নীতিকাণ্ডে বেলেঘাটার ব্লাড ব্যাংক
তিতুমীরের বংশধরের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিতুমীরের সপ্তম বংশধর সৈয়দ গুরফান আলি জায়িদি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান:
-
অপপ্রচারের অভিযোগ: তিতুমীরকে পরিকল্পিতভাবে হিন্দুবিরোধী হিসেবে তুলে ধরার চক্রান্ত চলছে। নীলকর ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “নীল চাষ কি শুধু মুসলিমরা করতেন?”
-
প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা: তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ যদি ইচ্ছামতো ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক বদলে দেন এবং সরকার নীরব থাকে, তবে ওনাদের শাসনভার জনগণের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের কিরানা হিলসের পরমাণু ঘাঁটিতে আঘাত ভারতীয় ড্রোনের
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: কে ছিলেন তিতুমীর?
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার ঔপনিবেশিক ও নীলকর-বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ ছিলেন সৈয়দ মীর নিসার আলি (তিতুমীর)।
-
প্রতিরোধ আন্দোলন: জমিদারদের অতিরিক্ত খাজনা ও শোষণ, ইউরোপীয় নীলকরদের দৌরাত্ম্য এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন তিনি।
-
বাঁশের কেল্লা: উত্তর ২৪ পরগনার নারকেলবেড়িয়ায় বাঁশ ও মাটি দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
-
শহিদ বরণ: ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর ব্রিটিশ বাহিনীর কামান ও আধুনিক অস্ত্রের আক্রমণে নারকেলবেড়িয়ার কেল্লাতেই তিতুমীর ও তাঁর বহু অনুগামী বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শহিদ হন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তিতুমীরের লড়াই বাংলার কৃষক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। ফলে জেলা পরিষদে তাঁর নাম ও ছবি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিহাস মুছে ফেলার প্রচেষ্টা বলে মনে করছে সচেতন সমাজ।


