বিশেষ নিবন্ধ:
১৯২৭ সালের ২৬ আগস্ট ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসের একটি ভাড়া বাড়িতে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কম্পানির (IBC) পথচলা আজ শতবর্ষে পা দিল। বিশ্ব সম্প্রচারের ইতিহাসে ‘আকাশবাণী কলকাতা’ কেবল একটি সরকারি সংবাদ বা বিনোদন মাধ্যম নয়, এটি আধুনিক বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় ও মানসগঠনের এক প্রামাণ্য ইতিহাস।
আরও পড়ুনঃ যাদবপুরের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই-এবিভিপি হাতাহাতি; ফের বহিরাগত বিতর্ক
সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক ভিত্তি
-
মহিষাসুরমর্দিনী ও রূপকারবৃন্দ: বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, পঙ্কজকুমার মল্লিক, বাণীকুমার ও রায়চাঁদ বড়ালের যৌথ সাধনায় ১৯৩১ সালে শুরু হওয়া ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ আজও ৯৫ বছর ধরে বাঙালির শারদোৎসবের আবহমান আগমনী সুর।
-
‘আকাশবাণী’ নামকরণ ও সাহিত্যচর্চা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর দেওয়া ‘আকাশবাণী’ নামটি পরবর্তীতে সর্বভারতীয় বেতারের অফিশিয়াল নাম হয়। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বনফুল, বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের পদচারণা এবং ‘বেতার নাটক’ ও ‘গল্পদাদুর আসর’-এর মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা নতুন উচ্চতা পায়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও জনসেবা
-
মুক্তিযুদ্ধ ও দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘সংবাদ পরিক্রমা’ দুই বাংলার মানুষকে এক সূত্রে বেঁধেছিল।
-
কৃষি ও সামাজিক সচেতনতা: ‘পল্লীমঙ্গল’ ও ‘কৃষিকথা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণ বাংলায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের কিরানা হিলসের পরমাণু ঘাঁটিতে আঘাত ভারতীয় ড্রোনের
বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও আগামীর রূপরেখা
-
ডিজিটাল রূপান্তর: স্মার্টফোন ও অতি-দ্রুত বিনোদনের যুগে পডকাস্ট এবং ‘News On Air’ অ্যাপের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর প্রয়াস চলছে।
-
আর্কাইভ সংরক্ষণ: রবীন্দ্রনাথের স্বকণ্ঠ, নেতাজির ভাষণ এবং শাস্ত্রীয় সংগীতের বিরল আর্কাইভাল অডিও ডিজিটাল ফরম্যাটে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আকাশবাণীর খবরের নিরপেক্ষতা ও ভাষার বিশুদ্ধতা আজও ফেক নিউজের যুগে তার সবচেয়ে বড় শক্তি। শতবর্ষের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ঐতিহ্য রক্ষা করেই আধুনিক প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছে আকাশবাণী কলকাতা।


