বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের মাটিতে আল কায়েদা-উপমহাদেশের (AQIS) অন্যতম শীর্ষ নেতা ইক্রামুল হকের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সে দেশের একাধিক জঙ্গি নেতার জামিন পাওয়া নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বাংলাদেশের বর্তমান তারেক রহমান সরকারকে নিশানা করেছেন শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ। সীমান্ত সুরক্ষা ও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের পরেই এই বিষয়টি সামনে এলো।
আরও পড়ুনঃ এসি কম্প্রেসার বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল ১৫ সদ্যোজাত! ইসলামাবাদের সরকারি হাসপাতালে বিধ্বংসী আগুন
কে এই ইক্রামুল হক?
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা ৩৩ বছর বয়সি ইক্রামুল ওরফে আবু তালাহকে নিয়ে গোয়েন্দাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য:
-
দেওবন্দ থেকে জঙ্গি সংগঠনে: ২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে পড়তে এসে আল কায়দার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হন এবং উপমহাদেশে সংগঠনের নিয়োগ বা ‘দাওয়া’ বিভাগের প্রধান পদে উঠে আসেন।
-
ভারতে স্লিপার সেল তৈরি: কোচবিহারের এক দম্পতিকে ভুয়া বাবা-মা বানিয়ে ভারতীয় নথিপত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করেন। পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানকালে মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাতেও একাধিক মডিউল তৈরি করেন তিনি।
-
গ্রেফতার ও জামিন: ২০২২ সালে বাংলাদেশে পালিয়ে যান ও ২০২৩ সালে ঢাকায় গ্রেফতার হন। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে জামিন পাওয়ার পর থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জ এলাকার মাদ্রাসায় গোপনে বা প্রকাশ্যে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।
জঙ্গি তৎপরতা ও সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানের মাটি থেকে নিয়ন্ত্রিত আল কায়দা-উপমহাদেশ মূলত জামাতুল মুজাহিদিন-বাংলাদেশ (JMB)-র মতো সংগঠনকে চাঙ্গা করে সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে প্রভাব বিস্তার করছে।
| ঘটনাক্রম/তথ্য | বিবরণ ও জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব |
| জঙ্গিদের গণ-জামিন | হাসিনা সরকারের পতনের পর আনসার-উল-বাংলা টিমের প্রতিষ্ঠাতা মুফতি জসিমুদ্দিন রহমানি এবং জেএমবি-র ১৮৫ জন সদস্য সহ প্রায় ৩৭০ জন জামিন পেয়েছেন। |
| আইইডি ও বিস্ফোরণ | সম্প্রতি ঢাকায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আইইডি উদ্ধার এবং একটি মাদ্রাসায় বোমার কারখানা চালুর প্রমাণ মিলেছে। |
| মার্শাল আর্টের আড়ালে প্রশিক্ষণ | ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামের একটি নতুন সংগঠন মার্শাল আর্টের ছদ্মবেশে মৌলবাদী কার্যক্রম চালাচ্ছিল, যা সম্প্রতি গোয়েন্দাদের নজরে আসে। |
আরও পড়ুনঃ ঝরে গেল বিশ্বসঙ্গীতের নক্ষত্র; প্রয়াত ডলি পার্টন
ভারতের পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক বৈঠক
ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ রোধে এবং সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ভারতীয় সংস্থাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে:
-
‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর: সম্প্রতি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (R&AW)-এর প্রধান পরাগ জৈন সহ চার আধিকারিক ঢাকায় বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা DGFI-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।
-
সীমান্তে কড়াকড়ি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ রোধে বারংবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।
রাজ্য পুলিশের তদন্তকারীদের মতে, সীমান্তে অনুপ্রবেশ কমলেও ভারতে ইতোপূর্বে সক্রিয় থাকা স্লিপার সেল ও মডিউলগুলোকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।



