বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, মঙ্গলকোট:
বাস্তবে ঘর না পেলেও সরকারি খাতায় উপভোক্তার নামের পাশে ঝুলছে ‘গৃহপ্রাপ্ত’ তকমা। আবার আবেদন না করা মৃত ব্যক্তির নামেও উঠে এসেছে আবাসের লক্ষাধিক টাকা। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের ঝিলু ২ নম্বর পঞ্চায়েতের নওয়াপাড়া গ্রামে আবাস যোজনায় এমন চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির তথ্য সামনে আসতেই এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতকে।
অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র ও ভুয়ো নথির ফাঁদ
২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবর্ষের সার্ভের ভিত্তিতে নওয়াপাড়া গ্রামে প্রায় ৬০০-র বেশি আবাসের ঘর নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চায়েত ও প্রশাসনিক পোর্টালে অনুসন্ধানের পর যে কয়েকটি প্রধান দুর্নীতি সামনে এসেছে:
-
মৃত ব্যক্তি ও ভূতুড়ে অ্যাকাউন্ট: মৃত মোল্লা মমিজুলের পরিবার আবাসের জন্য আবেদনই করেনি, অথচ নথিতে তাঁর নামে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে সেই টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য রয়েছে।
-
হাতে মেলেনি টাকা, নাম রয়েছে তালিকায়: মৃত হামিদা বিবির নামে বরাদ্দ টাকা গ্রামেরই অন্য এক বাসিন্দা রফিক শেখের অ্যাকাউন্টে গেছে বলে পোর্টালে দেখালেও, রফিক শেখের দাবি তিনি এক পয়সাও পাননি।
-
প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত: মানসুরা বিবির মতো কাঁচা মাটির ঘরে থাকা প্রকৃত দুস্থরা বছরের পর বছর ঘুরেও ঘর পাননি। অথচ নথিতে দেখানো হয়েছে তাঁদের নামেও টাকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অতিবৃষ্টি ও হড়পা বানের সতর্কতা; পর্যটকদের জন্য প্রশাসনের জরুরি নির্দেশিকা
দ্বিগুণ বিপাকে উপভোক্তারা
এই প্রশাসনিক জালিয়াতির কারণে সবথেকে বড় বিপদে পড়েছেন প্রকৃত দুস্থ বাসিন্দারা। নতুন করে আবাসের ঘরের আবেদন করতে গেলে পোর্টাল জানাচ্ছে—তাঁরা নাকি ইতিমধ্যেই আবাসের সুবিধা পেয়ে গিয়েছেন! ফলে বাস্তবে ঘর না পেয়েও নতুন করে আবেদনের সুযোগ হারিয়েছেন তাঁরা। সুবিচারের আশায় উপভোক্তারা BDO অফিস ও পঞ্চায়েতের দরজায় কড়া নেড়েছেন এবং ঘর অথবা আত্মসাত হওয়া টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা (বিজেপি) অভিযোগ করেছে যে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত পরিকল্পিতভাবে গরিব মানুষকে বঞ্চিত করে নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ও অনুগামীদের অ্যাকাউন্টে আবাসের টাকা পাইয়ে দিয়েছে। যদিও প্রশাসনিক আধিকারিকরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


