কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
নেপালের হিমবাহ ও কঠিন শিলাস্তরে ভয়াবহ ধসের পর সৃষ্ট হড়পা বানের ১০০ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি, প্রায় ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার বেগে নেমে আসা বরফ-কাদা-জলের স্রোতে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা মিলিয়ে আসছে এবং মর্গগুলিতে উপচে পড়ছে পচাগলা মৃতদেহের সারি।
আরও পড়ুনঃ এক নির্মম জল্লাদ, প্রকৃতির চরম প্রতিশোধের এক রক্তিম দলিল নেপালের “লাংটাং লিরুং”
উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ পরিসংখ্যান (রবিবার বিকেল পর্যন্ত)
-
নেপালে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ: ৭৮১ জন।
-
তিব্বতে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ: ১৬ জন।
-
মোট প্রাণহানি (সমগ্র অঞ্চল): ৭৫০-র বেশি (নথিভুক্ত ৭৮১+)।
-
নিখোঁজ: নেপালে ২,৫০২ জন এবং তিব্বতে অন্তত ৫৪৬ জন।
-
জীবিত উদ্ধার: ৯,৪৩৫ জন।
-
মোট ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রসের মতে আনুমানিক ৯০,০০০-এর বেশি মানুষ।
দেবঘাট জঙ্গলে অশনাক্ত দেহের গণকবর ও ডিএনএ সংগ্রহ
হাসপাতালগুলির মর্গে চরম ধারণক্ষমতার অভাব (৩০-৫০ জনের জায়গায় ২০০-৩০০ দেহ) এবং পচন ধরার কারণে নেপাল পুলিশ আইনের ২২(এ) ধারা প্রয়োগ করে জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে:
নিখোঁজ ভারতীয় ও পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি
-
ভারতীয়দের উদ্ধার: এ পর্যন্ত ১৪৯ জন ভারতীয়কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চিনে থাকা ৫০০ জন ভারতীয় নিরাপদ রয়েছেন এবং সেখান থেকে ৪০৩ জন নেপালে ফিরেছেন।
-
পশ্চিমবঙ্গের হালনাগাদ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যের মোট ৩৯ জনের মধ্যে বসিরহাটের ১ দম্পতিসহ ২ জন ফিরে এসেছেন। এখনও ৩৭ জন পশ্চিমবঙ্গবাসী নিখোঁজ রয়েছেন। ভবানী ভবনে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কাঁপছে নেপাল, ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কা! বন্যার হাই অ্যালার্ট; ভোটে কোশী নদীতে হু হু করে বাড়ছে জলস্তর
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা অন্তত ৫৩৭ শ্রমিক
রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় ত্রিশূলী নদীর ওপর থাকা ৯টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গমুখ কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গিয়েছে। আটকে পড়া প্রায় ৯০০ শ্রমিকের মধ্যে সাড়ে তিনশোকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও ৫৩৭ জন শ্রমিকের কোনো খোঁজ মেলেনি। রবিবার বিকেলে নুয়াকোটের আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের সুড়ঙ্গমুখ খুলে ভিতরে প্রবেশ করা গেলেও কারও সাড়াশব্দ মেলেনি।
বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ
উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা (ক্রিস্টেন কুক ও ড্যান শুগার) জানিয়েছেন, শুধু হিমবাহ ধস নয়, পাহাড়ের কঠিন শিলাস্তরে ভয়াবহ ভাঙন ধরেছিল। সেই শিলাখণ্ড হিমবাহে আঘাত করায় বিপুল পরিমাণ বরফের চাঁই ও কাদা একযোগে নেমে এসে এই অভূতপূর্ব তাণ্ডব চালিয়েছে।


