কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
টানা তিন মাস ধরে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র (অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার) টাকা না পাওয়ার অভিযোগে এবার সোচ্চার হলেন বঞ্চিত উপভোক্তারা। ক্ষুব্ধ মহিলারা সোমবার সকালে শিলিগুড়িতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের দপ্তরের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ ও দরবার শুরু করেন। ভিড়ের চোটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শিলিগুড়ির ব্যস্ততম হিলকার্ট রোড, স্তব্ধ হয়ে যায় আশেপাশের ব্যবসা-বাণিজ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF) ও র্যাফ (RAF)।
আরও পড়ুনঃ ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর যেন জীবন্ত দৃশ্য; হিরোশিমা মনে করাল নেপাল
ঘটনাস্থলের ছবি ও বঞ্চিত উপভোক্তাদের ভোগান্তি
-
অভিযোগের কারণ: আবেদনপত্রে কখনো ‘আন্ডার প্রসেস’ (Under Process) তো কখনো ‘রিজেক্ট’ (Reject) দেখাচ্ছে। গত ৩ মাস ধরে অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা।
-
বিপুল জমায়েত: এদিন আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও আবেদনপত্রের কপি হাতে নিয়ে সকাল থেকেই শ’য়ে শ’য়ে মহিলা শঙ্কর ঘোষের কার্যালয়ের সামনে দুই পৃথক লাইনে দাঁড়ান—একটি ডাবগ্রাম-জলপাইগুড়ি কেন্দ্রের এবং অপরটি দার্জিলিং অংশের সুবিধাবোধীদের জন্য।

-
রাস্তা অবরুদ্ধ: ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে উপভোক্তারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় হিলকার্ট রোডে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আরও পড়ুনঃ কি মনে আছে তো! পকেটে রেখে দিন এই টাকা! বদলাবে অভ্যাস, বদলাবে কলকাতা
প্রশাসনিক ও মন্ত্রীর বক্তব্য
ঘটনার সময়ে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ দাপ্তরিক কাজে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। তবে সংবাদ মাধ্যমকে টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন:
“আমার শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৩৫ হাজার উপভোক্তা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়মিত পাচ্ছেন। যাঁরা পাচ্ছেন না, তাঁদের সমস্যা সমাধানের জন্যই আমার কার্যালয়ে বিশেষ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। তবে শুধু শিলিগুড়ি নয়, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ও দার্জিলিং অঞ্চলের মানুষও এখানে চলে এসেছেন। যাঁরা এসেছেন তাঁদের ফেরানো যায় না, তাই সকলের জট ছাড়ানোরই চেষ্টা করা হচ্ছে।”
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সংক্রান্ত আবেদনপত্রের সমস্যা ও ত্রুটি মেটাতে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের কার্যালয়ে হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে দ্রুত যাচাই পর্ব চালানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


