Saturday, 5 September, 2026
5 September
HomeকলকাতাBagbazar: ১০৮ বছরের ঐতিহ্যে নজিরবিহীন সংকট; বাগবাজার সার্বজনীনের দুর্গাপুজো হবে তো?

Bagbazar: ১০৮ বছরের ঐতিহ্যে নজিরবিহীন সংকট; বাগবাজার সার্বজনীনের দুর্গাপুজো হবে তো?

১৯১৯ সালে ‘নেবুবাগান বারোয়ারি’ হিসেবে শুরু। দেশ স্বাধীনের পূর্বে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (১৯৩৮-৩৯ সালে সভাপতি) এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মতো বিপ্লবীদের আশ্রয় ও স্বদেশী প্রদর্শনীর কেন্দ্র ছিল এটি।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:

রাজ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথম দুর্গাপুজোর মুখে কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি গঠন নিয়ে চরম সংঘাত তৈরি হলো। ১০৮ বছরে পা দেওয়া এই ঐতিহাসিক বারোয়ারি পুজোর পরিচালন সমিতির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে জোর দড়ি টানাটানি এখন আদালতের দরজায়। কলকাতা হাই কোর্টের নজরদারিতে আয়োজিত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ভোট সমতায় (‘টাই’) শেষ হওয়ায় সার্বিক অচলাবস্থা আরও জোরালো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ৩ হাজার ড্রোনের আলোয় ‘দুর্গাপুজোর গল্প’; বিশ্বের বাঙালিকে জুড়তে বিরাট পরিকল্পনা রাজ্যের

ভোটপর্ব ও নজিরবিহীন ‘টাই’ সংকট

হাই কোর্টের নির্দেশে ও আদালত নিযুক্ত দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে সম্প্রতি সাধারণ সম্পাদক এবং চারজন পরিচালনা পর্ষদ সদস্য পদের জন্য ভোটাভুটি আয়োজিত হয়। তবে ভোটের ফলাফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে:

  • ভোটের পরিসংখ্যান: মোট ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬৬ জন ভোটদান করেন; বাকি ১১ জন বিরত ছিলেন।

  • ৩৩-৩৩ অচলবস্থা: সাধারণ সম্পাদক পদের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই সমান ৩৩টি করে ভোট পান।

  • কাস্টিং ভোট নিয়ে বিতর্ক: নিয়ম অনুযায়ী সংঘাত মেটাতে সভাপতির কাস্টিং ভোটের কথা বলা হলেও, বিরোধী শিবিরের আপত্তিতে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষকরা তা অনুমতি দেননি। প্রার্থী গৌতম নিয়োগী পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন।

  • অশান্তির অভিযোগ: ভোটাভুটির দিনই শ্যামপুকুর থানায় এক মহিলা ভোটারকে হেনস্থা ও মারধরের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ  উৎসবের মুখে রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের বড়সড় অভিযান; ১৭টি সিল ও বহু লাইসেন্স বাতিল

রাজনৈতিক সমীকরণ ও কমিটি দখলের লড়াই

ঐতিহাসিক এই পুজোর সঙ্গে চিরকালই হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বদের নাম জড়িয়ে থেকেছে:

সময়কাল বাগবাজার সার্বজনীনের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক যোগ
সূচনা ও স্বাধীনতা সংগ্রাম (১৯১৯–১৯৩৯) ১৯১৯ সালে ‘নেবুবাগান বারোয়ারি’ হিসেবে শুরু। দেশ স্বাধীনের পূর্বে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (১৯৩৮-৩৯ সালে সভাপতি) এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মতো বিপ্লবীদের আশ্রয় ও স্বদেশী প্রদর্শনীর কেন্দ্র ছিল এটি।
বিগত বছরগুলির ধারা দীর্ঘ সময় ধরে শাসকদলের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীরা (যেমন প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজা বা কাউন্সিলর বাপি ঘোষ) এই পুজোর পরিচালনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন।
বর্তমান সংকট (২০২৬) রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই অরাজনৈতিক বনাম রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মধ্যে কমিটি দখলের লড়াই প্রকাশ্যে চলে আসে, যা এবার আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

উৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও এখনও প্যাণ্ডেল বা পুজোর মূল প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু করা যায়নি। প্রতি বছর সাবেক একচালা প্রতিমা ও ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপ দেখতে লাখ লাখ দর্শনার্থী যে বাগবাজারে ভিড় জমান, সেখানে এই আইনি জট ও অচলাবস্থায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন উত্তর কলকাতার প্রবীণ বাসিন্দা ও পুজোপ্রেমীরা। এখন হাই কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে পুরো বাগবাজার।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন