কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
টানা বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে সুদূরপশ্চিম নেপালের আপি হিমাল ভাট্টার এলাকায় আচমকা এক বিশাল ভূমিধস নেমে এসেছে। ধসের ফলে বিপুল পরিমাণ পাথর, কাদা ও মাটি এসে পড়েছে প্রমত্তা চৌলানি (যা চামেলিয়া নদী নামেও পরিচিত) নদীতে। এর ফলে নদীর গতিপথ আংশিকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। আটকে যাওয়া কাদা-পাথরের বাঁধের পেছনে হু-হু করে বিপুল জলরাশি জমতে শুরু করায় আবারও এক বিধ্বংসী ‘হড়পাবানের’ (Flash Flood) চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত-নেপাল সীমান্ত ঘেঁষা নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা।
আরও পড়ুনঃ বদলে যাবে ভূগোল? মানচিত্র থেকে মুছে যাবে বহু এলাকা! অস্তিত্ব সংকটে বাংলা
ধসের প্রকৃতি ও তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক ঝুঁকি
সুদূরপশ্চিম নেপালের আপি হিমাল পার্বত্য অঞ্চলে এই ধসের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির মূল দিকগুলি:
-
গতিপথ অবরুদ্ধ: পাহাড়ি ধসের দরুণ বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ, কাদা ও বড় বড় পাথর সোজা চৌলানি নদীর গর্ভে এসে পড়ায় স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

-
‘জলরোষের’ আশঙ্কা: নদীর অবরুদ্ধ গতিপথে জল জমা হতে হতে যদি আচমকা সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যায়, তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তীব্র বেগে ধেয়ে আসবে বিধ্বংসী হড়পাবান।
-
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হুমকি: আপি হিমাল অঞ্চলে উৎপন্ন এই চৌলানি নদীটি পরবর্তীতে সীমান্ত নদী ‘মহাকালী’-তে গিয়ে মিশেছে। ফলে নেপালের সাথে সাথে ভারতের সীমান্তঘেঁষা গ্রাম ও অঞ্চলগুলিও জলপ্লাবনের সমান ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গভীর ষড়যন্ত্র ভারতের মহাকাশ গবেষণার বিরুদ্ধে! গতকালের লাস্ট মিশনটাও ব্যর্থ হতো! “THE NATIONAL HERO” অজিত স্যার
প্রশাসনের তৎপরতা ও জরুরি উদ্ধার প্রস্তুতি
বিপর্যয় রুখতে এবং প্রাণহানি এড়াতে নেপাল সরকারের তরফ থেকে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
| প্রশাসনিক স্তর | গৃহীত পদক্ষেপ ও নিরপত্তা নির্দেশিকা |
| মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ | সুদূরপশ্চিম নেপালের মুখ্যমন্ত্রী খাগরাজ ভট্ট পুরো প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় (High Alert) থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। চালু করা হয়েছে জরুরি হেল্পলাইন নম্বর। |
| নজরদারি ও সুরক্ষাবলয় | নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, নদীর জলস্তর আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও পরিস্থিতির ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বালাঞ্চের ‘নেপাল চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র’ এলাকাতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। |
| সাধারণ মানুষকে সতর্কবার্তা | নদীর তীরবর্তী এলাকা ও নদী অববাহিকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বা যে কোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। |
পরিস্থিতি যদি আরও মারাত্মক রূপ নেয়, তবে দ্রুত সেনা ও সশস্ত্র উদ্ধারকারী দল নামানো হবে বলে নেপাল ও সীমান্ত প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।


