বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ:
ইন্দোনেশিয়ার কুখ্যাত আগ্নেয়গিরি ‘আনাক ক্রাকাতোয়া’ (Anak Krakatau) দীর্ঘ আট বছরের নীরবতা ভেঙে ফের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ও ধারাবাহিক বিস্ফোরণ শুরু করেছে। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাতের জেরে ছাই ও ধোঁয়ার বিশাল মেঘ আকাশ ঘিরে ফেলার পর বায়ুমণ্ডলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। আন্তর্জাতিক আকাশপথ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হওয়ায় ৫৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ৩০১টি বিমান বাতিল করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ যুগান্তকারী পরিবর্তন! তারাপীঠ মন্দিরে ডিজিটাল যুগের সূচনা
অগ্নিSource ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
উদ্বেগজনক পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পেতে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (BNPB) একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে:
-
লেভেল-৩ সতর্কতা: অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা আগেই থাকায় গত ২ জুলাই থেকেই ওই এলাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থাৎ লেভেল-৩ (Level-3 Alert) সতর্কতা জারি রাখা হয়েছিল।
-
স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পরিধান: পার্শ্ববর্তী জনবসতিতে ছাই বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে বেরোলে বাধ্যতামূলক মাস্ক এবং বিশেষ চশমা (Goggles) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-
বিমানের রুট পরিবর্তন ও বাতিল: ছাইয়ের মেঘের কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া ও ইঞ্জিনের সুরক্ষার তাগিদে একাধিক বিমানবন্দর থেকে পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।।

ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য বিপজ্জনক আগ্নেয়গিরি ও বর্তমান স্থিতি
আনাক ক্রাকাতোয়ার পাশাপাশি আরও একাধিক পর্বতে সক্রিয়তা দেখা গিয়েছে:
| আগ্নেয়গিরির নাম | বর্তমান স্থিতি ও সতর্কতা স্তর |
| মাউন্ট সেমেরু (Mount Semeru) | রবিবার ফের অগ্ন্যুৎপাত হয়। আকাশজুড়ে ১ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছাই ছড়িয়ে পড়ে। ৫ কিমি ব্যাসার্ধের অঞ্চল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। |
| মাউন্ট মেরাপি, লেওটোবি লাকি-লাকি ও সিনাবুং | প্রতিটি সংবেদনশীল পর্বতেই বর্তমানে লেভেল-৩ কড়া নজরদারি জারি রাখা হয়েছে। |
| সুনামি আতঙ্ক | ভলক্যানোলজি সংস্থা (PVMBG) স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান অগ্ন্যুৎপাতের জেরে নতুন করে কোনো সুনামি তৈরির ঝুঁকি নেই। |
আরও পড়ুনঃ রাজ্য বিজেপির নতুন অধিনায়ক কে? জল্পনার শীর্ষে লকেট চট্টোপাধ্যায়, চলতি মাসেই নাম ঘোষণার সম্ভাবনা
১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ইতিহাসের ছায়া
ইন্দোনেশিয়ার কাছে ক্রাকাতোয়ার নাম এক আতঙ্কের স্মৃতি। ১৮৮৩ সালে মূল ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির মহা-অগ্ন্যুৎপাত ও তৎপরবর্তী দানবীয় সুনামিতে ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুমণ্ডলের আবহাওয়া বদলে গিয়েছিল। যদিও বর্তমান বিস্ফোরণে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি, তবুও সেই করুণ ইতিহাস মনে রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে সুমাত্রা ও জাভা উপকূলের প্রশাসন।


