কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়ি ও কালিম্পং:
প্রতিবেশী দেশ নেপালে ঘটে যাওয়া মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রেশ ও অশনি সংকেত এবার উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাতেও। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বুধবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে, যার ফলে পাহাড়ের ভৌগোলিক পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে জটিল হতে পারে। এই চরম পরিস্থিতিতে নবান্ন থেকে শুধু নির্দেশ পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত না থেকে সরাসরি গ্রাউন্ড জিরোতে নেমে তদারকি করতে আজ, মঙ্গলবার জরুরি ঝটিকা সফরে উত্তরবঙ্গে পৌঁছাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলকে বড়সড় দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং আগাম প্রস্তুতি সুনিশ্চিত করতে কালিম্পং ও উত্তরকন্যায় একাধিক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে বসবেন তিনি।
সফরসূচি ও কালিম্পংয়ের প্রশাসনিক কর্মসূচি
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টারে সরাসরি কালিম্পং রওনা দেবেন (আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে সড়কপথে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে)।
-
সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা প্রদান: কালিম্পং টাউন হলে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসীদের হাতে সরকারি সামাজিক প্রকল্পের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে দেবেন তিনি।
-
উপস্থিত নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধি: টাউন হলের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, বিধায়ক ভরত ছেত্রী, সোনম লামা ও নোমান রাইয়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
-
জেলাশাসকের বক্তব্য: কালিম্পংয়ের জেলাশাসক কুহুক ভূষণ জানিয়েছেন, “মঙ্গলবার টাউন হলে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি অনুষ্ঠান রয়েছে। সেখানে পাহাড়ে সরকারি সুবিধা প্রদানের পর একটি বৈঠক হবে। কালিম্পংয়ের পর শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।”
আরও পড়ুনঃ “ভয় IN ভরসা OUT”! জলপাইগুড়ির CPI(M)-এর সুবোধ সেন ভবনে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব
দুর্যোগ মোকাবিলা ও পাহাড়ের নিরাপত্তা: উত্তরকন্যায় মেগা বৈঠক
কালিম্পংয়ের কর্মসূচি সেরে মুখ্যমন্ত্রী সমতলে ফিরে শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’য় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি জরুরি ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।
| মূল আলোচনার বিষয় | প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও আগাম পদক্ষেপ |
| ধসপ্রবণ ও বিপজ্জনক এলাকা | পাহাড়ের অতি-সংবেদনশীল ধসপ্রবণ অঞ্চল, পাহাড়ি রাস্তার নিরাপত্তা এবং নদী-খালের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। |
| দ্রুত সতর্কবার্তা (Early Warning) | দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ জনবসতিগুলিতে কীভাবে দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠানো যায়, তার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। |
| ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল | জেলা প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন নিশ্চিত করা। |
পাহাড়ে প্রকৃতির রুদ্ররূপ নেমে আসার আশঙ্কায় আগেভাগেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে সমগ্র ব্যবস্থার তদারকি করায় প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা তুঙ্গে।


