কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
সাম্প্রতিক বিধ্বংসী হড়পা বান ও হিমবাহ ধসের ট্রমা কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে হিমালয় কোল ঘেঁষা নেপাল ও তিব্বত। মঙ্গলবার রাতে ফের জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.০ (নেপালের ন্যাশনাল আর্থকোয়েক মনিটরিং সেন্টার অনুযায়ী ৫.৩)। এই কম্পন-কেন্দ্রটি ছিল মূলত নেপালের মুস্তাং জেলার লোমানথাং এলাকায়, যা ত্রিশূলি নদীর পশ্চিমে এবং কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৩৭৫ কিমি উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের জোড়া আঘাত ও হিমালয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি
নেপালে এই কম্পন অনুভূত হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রতিবেশী অঞ্চল তিব্বতেও জোরালো কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
| অঞ্চল | সময় ও মাত্রা | ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও গভীরতা |
| তিব্বত (Tibet) | মঙ্গলবার বিকেলে (৫.৩ মাত্রা) | ভূগর্ভের প্রায় ৩৫ কিমি গভীরে (এর আগে গত বৃহস্পতিবারও ৫.০ মাত্রার কম্পন হয়)। |
| নেপাল (Nepal) | মঙ্গলবার রাত ৯:৩৮ (৫.০ / ৫.৩ মাত্রা) | মুস্তাং জেলা (লোমানথাং), পার্শ্ববর্তী মানাং, দোলপা ও স্যাংজাতেও ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। |
আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার প্রহর গুনছে তিলোত্তমা! বুলেট ট্রেনের ধাঁচে আধুনিক ট্রাম নামছে কলকাতার রাস্তায়
ভয়াবহ হড়পা বানের ক্ষত ও বিপর্যয় চিত্র
ভূমিকম্পের এই নতুন ধাক্কা এমন এক সময়ে এলো, যখন গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ত্রিশূলি ও ভোটেকোশি নদীর ধ্বংসাত্মক হড়পা বানের ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত নেপাল ও চীন সীমান্ত।
-
মৃতের সংখ্যা ও নিখোঁজ: মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৩৫৭ এবং তিব্বতে ৪৩ জন। দুই দেশ মিলিয়ে এখনও ৫,৩০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ।
-
অবকাঠামো ধ্বংস: সেতু, সড়ক ও একাধিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার কাজ এখনও চলছে।
-
নতুন ধ্বসের সতর্কতা: কম্পনের পাশাপাশি পার্বত জেলার কিমরুং নদীতে পাহাড় ধসে জলপ্রবাহ আটকে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা ও প্লাবনের লাল সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জলবিজ্ঞান বিভাগ।
পরপর ভূমিকম্প ও হিমবাহ ধসের ফলে সমগ্র হিমালয় ও তিব্বত মালভূমি অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন জলবায়ু ও ভূবিজ্ঞানীরা।


