আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের পারদ একলাফে আরও কয়েক ধাপ বেড়ে গেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কর্তৃক ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এবার সরাসরি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল ইরান। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জর্ডানের আল-আজরাক (Al-Azraq) অঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মোয়াফ্ফাক সালতি’ (Muwaffaq Salti) বিমান ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) এই পদক্ষেপকে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি “শাস্তিমূলক অভিযান” বলে অভিহিত করেছে।
আক্রমণ ও জর্ডানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) এই প্রতিশোধমূলক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড়সড় যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে:
| বিষয় | সরকারি ও সামরিক তথ্য |
| আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু | জর্ডানের আল-আজরাকের ‘মোয়াফ্ফাক সালতি’ বিমান ঘাঁটি, যেখানে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা ও আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। |
| ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা | জর্ডান সেনা ও জর্ডান এয়ার ফোর্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে মোট ২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়া হয়েছিল। |
| প্রতিরোধ ও জর্ডানের দাবি | জর্ডানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ১৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ধ্বংস বা ইন্টারসেপ্ট করে দেয়। বাকি ২টি মিসাইল জনমানবহীন ফাঁকা এলাকায় গিয়ে পড়ে। |
| ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত | জর্ডান সেনার দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। |
আরও পড়ুনঃ ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায়’; ওপরে কোলাকুলি, নিচে ‘খুনো-খুনি’! বাংলার নতুন ‘রাজনৈতিক সৌজন্য’?
হামলার কারণ ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে প্রভাব
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনী (CENTCOM) কতৃক একাধিক ইরানি তেলের ট্যাঙ্কার ও জাহাজে বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই জর্ডানের বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
-
বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যে এই সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude Oil) দাম ব্যরেল প্রতি বেড়ে প্রায় ৯৪.৫০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
-
আঞ্চলিক অস্থিরতা: একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ এবং অন্যদিকে জর্ডান সীমান্তে হাই অ্যালার্ট জারির ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক জলপথগুলির নিরাপত্তা বড়সড় সংকটের মুখে পড়েছে।
জর্ডান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরণের পাল্টা পদক্ষেপের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।


