বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
সীমান্ত বা কোনো গোপন ডেরা নয়, সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (PNB) নিজস্ব কারেন্সি চেস্ট থেকেই উদ্ধার হলো ১৭.২৯ কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ জাল নোট (FICN)। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের এই নজিরবিহীন জালনোট কেলেঙ্কারিতে পিএনবি-র এক শীর্ষ আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বৈধ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সুরক্ষাবৃত্ত ভাঙিয়া কীভাবে এত বিপুল জালনোট কারেন্সি চেস্টে প্রবেশ করল এবং এটি কোনো আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের কাজ কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে এনআইএ।
আরও পড়ুনঃ ক্যামেরা আছে, রিচার্জ নেই! রাস্তায় অকেজো একাধিক সিসি ক্যামেরা
হিসাব মেলানোর সময় কেলেঙ্কারি ফাঁস ও এনআইএ-র অ্যাকশন
গত ৬ জুলাই সাহারানপুরের পিএনবি কারেন্সি চেস্ট থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) জয়পুর দফতরে ১১১ কোটি টাকা পাঠানো হয় (যার মধ্যে ৫০০ টাকার ১,৯০০টি এবং ২০০ টাকার ৮০০টি বান্ডিল ছিল)। আরবিআই-তে খতিয়ে দেখার সময় প্রথমে ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। এরপরই বিস্তারিত তদন্তে সাহারানপুরের সোফিয়া মার্কেট শাখার কারেন্সি চেস্টে ১৭.২৯ কোটি টাকার জাল নোটের সন্ধান মেলে।
| মামলার টাইমলাইন ও আইনি পদক্ষেপ | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অগ্রগতি |
| প্রথম এফআইআর (FIR) | ২৯ আগস্ট সদর বাজার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১৭৮ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। |
| এনআইএ-র হাতে তদন্ত | গত ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তভার গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। |
| শীর্ষ আধিকারিক গ্রেফতার | সোমবার এনআইএ গ্রেফতার করে জগাধরী কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার এবং মূল অভিযুক্ত অমিত কুমার-কে। |
পিএনবি-র তিন আধিকারিক ও তাঁদের ভূমিকা
জাল নোট কাণ্ডে ব্যাঙ্কের ভেতরকার কর্মকর্তাদের যোগসাজশ স্পষ্ট হতেই পিএনবি কর্তৃপক্ষ তিন শীর্ষ আধিকারিককে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করেছে।
-
অভিযুক্ত তিন আধিকারিক: সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, সোফিয়া মার্কেট কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং জগাধরী কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমার।
-
লুকআউট নোটিশ ও এসআইটি (SIT) অভিযান: অভিযুক্তরা নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন—এই আশঙ্কায় পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করে। পরবর্তীতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বহু ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নথি বাজেয়াপ্ত করেছে।
-
বিপুল গাফিলতি: তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, আরবিআই-তে ১১১ কোটি টাকার মতো বিপুল চালান প্যাকিং ও পাঠানোর গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন পার্ট-টাইম হাউস-কিপারের (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) ওপর!
আরও পড়ুনঃ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীর নেপথ্যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যতীন চক্রবর্তী! সিপিআই(এম)-এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আরএসপি-র আপসহীন অবস্থান
এটিএম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জালনোট ছড়ানোর আশঙ্কা
কারেন্সি চেস্টের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ভল্ট থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের শাখা ও এটিএমে (ATM) নিয়মিত টাকা পাঠানো হয়। ফলে অনিয়ম ধরা পড়ার আগে এই ১৭.২৯ কোটি টাকার কত অংশ সাধারণ মানুষের হাতে বা বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সীমান্তপারের বা নেপাল সংলগ্ন কোনো আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে এই আধিকারিকদের আর্থিক লেনদেন ছিল কিনা। সরকারি ব্যাঙ্কিং কাঠামোর ভেতরে ঢুকে পড়া এই গভীর ষড়যন্ত্রের শিকড়ে পৌঁছাতে এনআইএ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।


