বিশেষ আইনি ও আদালত প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:
শালবনি জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তদন্তকারীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক (PA) সুমিত রায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা পড়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শালবনিতে জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে যে তথ্য মিলছে তা কেবল ‘হিমশৈলের চূড়া’ (Tip of the iceberg)। এই দুর্নীতির শিকড় আরও গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরবর্তী সময়েই (জুন মাসে) সুমিতের অ্যাকাউন্টে এক লপ্তে প্রায় ৭১ লাখ টাকা জমা পড়েছিল বলেও আদালতে জানানো হয়।
হিসাব ও তদন্তকারীদের আর্জি
উচ্চতম আদালতে শুনানির সময় তদন্তকারীদের পক্ষে সওয়ালকারী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জোর দাবি জানান:
| আইনি সওয়ালের বিষয় | তদন্তকারী সংস্থার যুক্তি ও অভিযোগ |
| অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা | সুমিতের অ্যাকাউন্টে কীভাবে ১৫ কোটি টাকা এলো এবং এই বিপুল অর্থের মূল উৎস (Source) কী, তা খতিয়ে দেখতে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। |
| অসহযোগিতার অভিযোগ | জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেও সুমিত তদন্তকারীদের সাথে সহযোগিতা করছেন না। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন বা স্পষ্টভাবে বলছেন না। |
| হেফাজতে নেওয়ার আর্জি | প্রভাবশালী এই অভিযুক্তের কাছ থেকে দুর্নীতির মূল চক্রান্তকারীদের নাম উদ্ধার করতে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজের আর্জি জানানো হয়। |
আরও পড়ুনঃ আয়ু ৭ বছর, খুলল চিকিৎসার নতুন দিশা; গবেষণাগারে কৃত্রিম মগজ বানিয়ে যুগান্তকারী সাফল্য
হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট: মামলার গতিপথ
শালবনি থানায় এফআইআর (FIR) রুজু হওয়ার পর থেকেই সুমিত রায়ের সন্ধান মিলছিল না। এমনকি তাঁর খোঁজে অভিযানও চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকাশ্যে এসে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আর্জি জানান।
-
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ: হাইকোর্ট সুমিতের আগাম জামিনের আর্জি সরাসরি খারিজ করে দেয়।
-
শীর্ষ আদালতে আবেদন: হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত রায়।
-
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ: বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে।
বৃহস্পতিবার পুনরায় এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সুমিত রায়কে অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে নাকি তদন্তকারীরা তাঁকে হেফাজতে নিতে পারবেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।


