বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ (Surendranath Law College)। বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে এবং পরীক্ষায় বসার সুযোগের দাবিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে (Teacher-in-Charge) ঘিরে রাতভর ঘেরাও ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা।
দ্বিতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও অষ্টম সেমিস্টারের বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফর্ম ফিল-আপের শেষ লগ্নে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী।
বিক্ষোভের মূল কারণ ও শিক্ষার্থীদের দাবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম উপস্থিতি না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় বসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আন্দোলনের প্রধান দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | ঘটনাবলী ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ |
| উপস্থিতির নিয়ম | বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে ৭৫% উপস্থিতি বাধ্যতামূলক বলে কলেজে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। |
| শিক্ষার্থীদের অভিযোগ | ফর্ম ফিল-আপের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের অবিলম্বে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিতে হবে। |
| ডিজিটাল ট্র্যাকিং | কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘VRP’ (Virtual/Verified Recording System) মডেলে উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়, যা গত জুন মাসেই প্রকাশ করা হয়েছিল। |
আরও পড়ুনঃ হাতে মাত্র আর দশ বছর! তারপরই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে গোটা মানবজাতি; নেপথ্যে এআই?
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ
ঘেরাও চলাকালীন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, নিয়ম শিথিলের সিদ্ধান্ত একা কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে নেই:
-
বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি: উদ্ভূত পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের দাবির কথা জানিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মেল ও চিঠি পাঠানো হয়েছে।
-
আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস: প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা ছাড়া এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান অধ্যক্ষ।
-
পুলিশি হস্তক্ষেপ নয়: ক্যাম্পাসের অন্দরে কোনো পুলিশ প্রবেশ করবে না বলে আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেন তিনি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আবেদন জানান।
তবে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি ও ফর্ম ফিল-আপের সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।


