বিশেষ বিজ্ঞান ও পরিবেশ প্রতিনিধি:
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চল, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, গারো পাহাড়, মেঘালয়, সিকিম এবং নেপালের কাঠমান্ডু উপত্যকার ভূগর্ভস্থ ‘ফল্টলাইন’ (Fault lines) টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত সক্রিয়তার কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। এই বিশাল অঞ্চলজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হচ্ছে।
ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, ভারতীয় এবং ইউরেশীয় প্লেটের সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকা বিশ্বের অন্যতম তীব্র ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল (Seismic Zone V)। তবে বৈজ্ঞানিক নিয়মে ভূ-কম্পনের সুনির্দিষ্ট দিন বা মাত্রার আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘদিনের জমা হওয়া শক্তির কারণে এই অঞ্চলে শক্তিশালী ভূ-কম্পনের ঝুঁকি সর্বদা বজায় থাকে।

আরও পড়ুনঃ ২০৩০-এর অপেক্ষা নয়, ৪ বছর আগেই নীলকুরিঞ্জির নীলে সাজছে কেরলের পাহাড়
হিমালয় অঞ্চলের ঐতিহাসিক ভূমিকম্পের চিত্র
উত্তর-পূর্ব ভারত ও নেপাল চত্বরে অতীতের প্রধান প্রধান ভূমিকম্প ও টেকটোনিক কাঠামোর ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:
| বছর ও সময় | ভূ-কম্পনের স্থান ও মাত্রা | ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বিবরণ |
| ৭ জুলাই ১২৫৫ | কাঠমান্ডু ও হিমালয় অঞ্চল (আনুমানিক ৮.৫–৮.৮) | এই অঞ্চলের নথিবদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও বিধ্বংসী মেগা-আর্থকোয়েক। কাঠমান্ডু উপত্যকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। |
| ১৫ আগস্ট ১৯৫০ | আসাম-তিব্বত সীমান্ত (মাত্রা ৮.৬) | বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী এই ভূ-কম্পনে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং উত্তর-পূর্বে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে। |
| ২৮ এপ্রিল ২০২১ | আসামের শোণিতপুর (মাত্রা ৬.৪) | সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর-পূর্বে অনুভূত মাঝারি মানের শক্তিশালী কম্পন, যা আসাম ও সংলগ্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলেছিল। |
আরও পড়ুনঃ রেজিনগরে কাফি, নন্দীগ্রামে মিলন; হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
টেকটোনিক চাপ ও আগাম সতর্কতা
ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী, ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ভারতীয় প্লেটের ক্রমাগত চাপের ফলে হিমালয় ও সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে প্রতি বছর প্রচুর শক্তি সঞ্চিত হয়। ছোট ও মাঝারি মানের কম্পনগুলি মূলত এই ভূগর্ভস্থ চাপ কিছুটা মুক্ত হওয়ার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এই অঞ্চলে তীব্র ভূ-কম্পনের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। তাই আতঙ্ক না ছড়িয়ে অবকাঠামোগত সতর্কতা, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) আগাম প্রস্তুতি এবং ভূ-কম্পন সহনশীল (Earthquake-resistant) ভবন নির্মাণ প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়াই এই অঞ্চলের একমাত্র সুরক্ষা কবচ।
(যদিও ভুমিকম্পের আগাম খবর দেওয়া সম্ভব নয়, ভূতত্ত্ববিদ ও ভূ-বিজ্ঞানীদের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করা হলো।)



