বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি, কলকাতা:
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে গৃহবন্দি সিপিএমের সাবেক দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব। তবে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী আদেশে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ও দলের নাম স্থগিত হওয়ার পর, বঙ্গ রাজনীতির ময়দানে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে এক যুগ আগে করা তাঁর একটি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বক্তব্য।
সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে অনেকেই ১২ বছর আগের সেই বক্তব্যকে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন।
আরও পড়ুনঃ কাকের বাসায় কোকিলের ডিম! নন্দীগ্রামে ৭৯৪ ভোট পাওয়া কংগ্রেসকে সমর্থন ‘সর্বহারা’ মমতার
২০১৪ সালের বিতর্কিত মন্তব্য ও বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ
২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন গৌতম দেব। সেই সময় তিনি তৃণমূলের স্থায়িত্ব এবং পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন।
| সময়কাল ও প্রেক্ষাপট | গৌতম দেবের বক্তব্য ও বর্তমান আইনি/রাজনৈতিক অবস্থা |
| ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনপদ্ধতি ও দল পরিচালনা নিয়ে কটাক্ষ করে গৌতম দেব দাবি করেছিলেন, মিথ্যের ওপর ভিত্তি করে সরকার বা দল দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখা যায় না এবং দল সঙ্কটে পড়বে। |
| বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০২৬) | নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। |
| রাজনৈতিক ব্যাখ্যা | এক পক্ষ একে গৌতম দেবের দূরদর্শী রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বা ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ হিসেবে দেখলেও, অন্য পক্ষ মনে করে এটি ছিল সে সময়ের এক সাধারণ রাজনৈতিক আক্রমণ মাত্র। |
আরও পড়ুনঃ ‘জোড়া ঘাসফুল’ স্থগিত; তৃণমূলের নাম ও প্রতীক বিরোধে ইন্দিরা গান্ধী, শিবসেনা ও এনসিপি নজির
দুই শিবিরের বিকল্প পথ ও রাজনৈতিক চর্চা
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই ভিন্ন শিবিরকে উপনির্বাচনের জন্য বিকল্প নাম ও প্রতীকে লড়াই করতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নির্বাচন কমিশনের এই নজিরবিহীন আইনি হস্তক্ষেপের ফলেই দলের প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে। তবে ১২ বছর আগের গৌতম দেবের সেই পুরনো মন্তব্য কোনো সরাসরি পূর্বাভাস ছিল নাকি কাকতালীয় রাজনৈতিক মিল—তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, বর্তমানের চরম সংকটে প্রাক্তন এই সিপিএম মন্ত্রীর উক্তি নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


