বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী জমি কেলেঙ্কারি মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ালো। এই মামলায় ধৃত সুমিত রায় সিআইডি (CID) হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তদন্তকারীদের কাছে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বলে সূত্রের খবর। বিএনএসএস (BNSS) ১৮০ ধারায় রেকর্ড করা জবানবন্দিতে সুমিত দাবি করেছেন, তিনি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর কোষাধ্যক্ষের নির্দেশেই ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা দিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন বেপাত্তা থাকার পর সম্প্রতি সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মেলার পরেই শালবনী জমি দুর্নীতির তদন্তে গতি আসে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আইনি পদক্ষেপ
আদালতে সিআইডির পক্ষে সওয়াল করে সরকারি আইনজীবী জানান, হেফাজত চলাকালীন ধৃতের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে এবং তাঁর মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
| মামলার প্রধান বিষয় | সিআইডি তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্ত |
| আর্থিক লেনদেন | সুমিত রায়ের অ্যাকাউন্টে আনুমানিক ১৫ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ। |
| অভিযুক্তের জবানবন্দি | সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলীয় কোষাধ্যক্ষের নির্দেশে টাকা জমা করার দাবি। |
| আদালতের নির্দেশ | আসামিপক্ষের জামিনের আবেদন নাকচ; আগামী ২৪ তারিখ পর্যন্ত সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ। |
আরও পড়ুনঃ মমতায় ভরসা নেই, দলে দলে কংগ্রেসে যোগ তৃণমূলকর্মীদের
পটভূমি ও অতীত ঘটনাচক্র
শালবনী এলাকায় জমি কেনাবেচা ও অর্থ লেনদেনে কারচুপির এই মামলায় সুমিত রায় দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তদন্তের অংশ হিসেবে ইতিপূর্বে শালবনী থানার পুলিশ কালীঘাটে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনেও তল্লাশি চালায়, যদিও সেখানে সুমিতকে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীকালে ছাত্র সংগঠনের এক কর্মসূচি সূত্রে তাঁর গতিবিধির ইঙ্গিত মেলার পর অবশেষে তাঁকে জালে তোলে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। সুমিতের জবানবন্দির সত্যতা যাচাই করতে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের উসিল ও বাজেয়াপ্ত ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।


