বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
ঢাকে কাঠি পড়ার আর মাত্র হাতে গোনা ক’টা দিন বাকি। নতুন পোশাকে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা, ছবি তোলা আর আড্ডার প্রস্তুতিতে সেজে উঠছে শহর। তবে এর মাঝেই সমাজমাধ্যমে ‘পারফেক্ট লুক’ কিংবা পোশাকে নিজেকে আরও ছিপছিপে দেখানোর তাড়নায় শুরু হয়েছে দ্রুত ওজন কমানোর তাগিদ। কেউ হঠাৎ খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিচ্ছেন, আবার কেউ শরীর প্রস্তুত না থাকা সত্ত্বেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে ঘাম ঝরাচ্ছেন। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের এই অনিয়ন্ত্রিত দৌড় শরীরের ভেতরের পুষ্টি ও কার্যক্ষমতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুনঃ বালুরঘাট স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত ফরাক্কা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন, ব্যাহত ট্রেন চলাচল
অপরিকল্পিত ‘ক্র্যাশ ডায়েট’-এর ক্ষতিকর প্রভাব
খুব কম সময়ে ওজন কমানোর জন্য ভাত-রুটি বন্ধ করে দেওয়া বা কেবল জল ও ফল খেয়ে থাকার প্রবণতাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন পুষ্টিবিদ পল্লবী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, না খেয়ে ওজন কমালে চর্বি কমার বদলে শরীরের দরকারি পেশির ক্ষয় ঘটে।
| ডায়েটের ধরণ | শারীরিক ঝুঁকি ও উপসর্গ |
| ক্র্যাশ ডায়েট / কম ক্যালোরি | চরম দুর্বলতা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ ও মনোযোগের অভাব। |
| পুষ্টির ঘাটতি | চুল পড়া, ত্বকের নিস্তেজতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। |
| হরমোনের ভারসাম্যহীনতা | মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হওয়া এবং গলব্লাডারে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি। |
আরও পড়ুনঃ সুবিশাল ভূ-তাত্ত্বিক ঝুঁকির মুখে কলকাতা! বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা
জিমে অনভ্যস্ত শারীরিক ধকল
ফিটনেস বিশেষজ্ঞ সৈকত দাস জানান, নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের আগে ফিট হওয়ার লক্ষ্য থাকা খারাপ নয়, তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভারী ওজন তোলা বা অনিয়ন্ত্রিত পরিশ্রম বিপদ ডেকে আনে।
-
ধারাবাহিকতার অভাব: ৩-৪ মাস সময় নিয়ে সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চললে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়।
-
বিপদ: আগে থেকে প্রস্তুতি না নিয়ে হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম করলে পেশি ও হাড়ের ক্ষয় বা গুরুতর আঘাত (injury) হতে পারে।
মানসিক চাপ ও সমাজমাধ্যমের প্রভাব
কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট প্রিয়া রায়চৌধুরী-র মতে, ‘আমাকে সবচেয়ে ভালো দেখতে হতে হবে’—এই তুলনামূলক মানসিকতা ও সমাজমাধ্যমের ‘বিফোর-আফটার’ ছবি অনেকের মনে নিজের চেহারা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি করে।
-
মানসিকতার বদল প্রয়োজন: সৌন্দর্য কোনো নির্দিষ্ট ওজনের ওপর নির্ভর করে না।
-
প্রকৃত রূপচর্চা: শরীরকে কষ্ট দিয়ে কৃত্রিমভাবে রোগা হওয়ার চেয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসিই পুজোর সবচেয়ে বড় ‘লুক’।
কয়েক দিনের জন্য আয়নায় রোগা দেখানোর চেয়ে সুস্থ থাকা অনেক বেশি জরুরি। অসচেতনভাবে শরীরকে না খাইয়ে দুর্বল করার বদলে সঠিক পুষ্টিকর খাবার ও ধারাবাহিক ব্যায়ামের মাধ্যমেই সুস্থ থাকা সম্ভব।


