ক্রীড়া সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি:
জাপানের নিসশিনে অপেক্ষার ঐতিহাসিক অবসান। এশিয়ান গেমস ২০২৬ (Asian Games 2026)-এর তৃতীয় দিনে ভারতের ঝুলিতে এল প্রথম মহামূল্যবান সোনা। মহিলাদের ক্রিকেটের হাইভোল্টেজ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে স্রেফ উড়িয়ে দিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল (Team India)। বাইশ গজে স্মৃতি মন্ধানা ও বাংলার রিচা ঘোষের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর স্পিনারদের নিখুঁত স্পেল— সব মিলিয়ে ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সোনা ধরে রাখল হরমন বাহিনী।
আরও পড়ুনঃ ৫০ বছর পর ফের তেহরানের আকাশে UFO! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল চর্চা
সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড
-
ভারত: ২১৬/৩ (২০ ওভার) — স্মৃতি ৭৯, রিচা ৪৯; (ইনোশি প্রিয়দর্শিনী ১/৩৫)
-
শ্রীলঙ্কা: ৬৯/১০ (১৫.৪ ওভার) — আতাপাত্তু ২৯; (দীপ্তি ৩/৬, শেফালি ২/১০, শ্রী চরণি ২/১২)
-
ফলাফল: ভারত ১৪৭ রানে জয়ী এবং স্বর্ণপদক প্রাপ্ত।
স্মৃতি ও রিচার ব্যাটে রেকর্ডের পাহাড়
কোরোগি স্পোর্টস পার্কের মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সাহসী সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর।
| ব্যাটার | সংগৃহীত রান | বল ও চার/ছক্কা | ম্যাচের মূল হাইলাইট |
| স্মৃতি মন্ধানা | ৭৯ | ৪৫ বল (৫টি চার, ৭টি ছক্কা) | মাত্র ৩০ বলে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি। |
| রিচা ঘোষ | ৪৯* (অপরাজিত) | ২২ বল (৬টি চার, ৩টি ছক্কা) | ইনিংসের শেষ ওভারে তোলেন ২৫ রান। |
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রান তোলে ভারত, যা এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে মহিলাদের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংসের নতুন রেকর্ড।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ির হায়দারপাড়ায় জঞ্জাল নিষ্কাশনে গাফিলতির অভিযোগ, সাতসকালেই পথে নেমে কড়া বার্তা পুরকমিশনারের
স্পিনের জালে তাসের ঘরের মতো ভাঙল লঙ্কা
২১৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন-আপ। লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু (২৯) ছাড়া দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের রান ছুঁতে পারেননি।
-
স্পিন আক্রমণ: ব্যাট হাতে ঝড়ের পর বল হাতেও কামাখ্যাকর ভূমিকা নেন শেফালি বর্মা (২টি উইকেট)। অফ-স্পিনার দীপ্তি শর্মা মাত্র ৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ২ টি উইকেট পান শ্রী চরণিও।
-
জয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ: ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। শেষ ব্যাটার কৌশানি নুথ্যাঙ্গানাকে বোল্ড করে ভারতের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন শ্রেয়াঙ্কা পাটিল।
পরপর কয়েকটি রূপো ও ব্রোঞ্জ জয়ের পর এই ঐতিহাসিক সোনা নিশ্চিতভাবেই এশিয়াডের মঞ্চে পুরো ভারতীয় শিবিরকে বাড়তি শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জোগাবে।


