বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের দুই কক্ষে পুনরায় ইমপিচমেন্ট (অভিযোগ আনয়ন বা অপসারণ) প্রস্তাব আনার জোর তোড়জোড় শুরু করেছে কংগ্রেসসহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শরিক দলগুলি। বৃহস্পতিবার ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, দলগুলি যৌথভাবে শিগগিরই লোকসভা ও রাজ্যসভায় অপসারণের নোটিস দিতে আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে ‘যন্তর মন্তর ২’ হবে! হুঁশিয়ারি ককরোচদের
কেন নতুন করে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব?
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি বিস্ফোরক অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী—অন্তত ১৪ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানান।
অভিযোগ, কমিশনকে এককভাবে পরিচালনা করে অন্যান্য কমিশনারদের অন্ধকারে রেখেই ভোটার তালিকা সংশোধন, ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR), ফর্ম-৬-এ অননুমোদিত পরিবর্তন এবং ‘ইসিআইনেট’ (ECINET) সফটওয়্যারের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক গুরুতর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁর পদের আইনি ও প্রশাসনিক গ্রহণযোগ্যতা পুরোপুরি হারিয়েছেন।
ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের মূল অভিযোগসমূহ
সংসদে যে ইমপিচমেন্টের খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে, তাতে বেশ কয়েকটি প্রধান পয়েন্ট তুলে ধরা হচ্ছে:
-
নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনি বিতর্ক: ২০২৩ সালে সংবিধান সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে স্থান দেওয়া হয়। যার ভিত্তিতে অমিত শাহ প্যানেলে থেকে জ্ঞানেশকে নিয়োগ করেছিলেন।
-
একক একনায়কতন্ত্র (One-man autocracy): সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের সিদ্ধান্ত ঐক্যমত্য বা সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে হওয়া আবশ্যক। দুই কমিশনারকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে দাবি করা হয়েছে।
-
ভোটার তালিকায় কারচুপি ও এসআইআর বিতর্ক: পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুসহ একাধিক রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ।
-
রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিষয়ে একপেশে মনোভাব এবং নির্বাচনের ফলাফলকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে ব্যবহারের অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ কমে গেল দাম ৬০০ টাকা! সস্তা হয়ে গেল রান্নার গ্যাস?
সংসদে অপসারণ প্রস্তাবের আইনি পথ
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়াটি সাধারণ কোনো ভোটাভুটি নয়, এটি একটি জটিল সাংবিধানিক পথ:
| প্রক্রিয়া | লোকসভা | রাজ্যসভা |
| ন্যূনতম স্বাক্ষর প্রয়োজন | প্রস্তাব পেশের জন্য কমপক্ষে ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর। | প্রস্তাব পেশের জন্য কমপক্ষে ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর। |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | স্পিকার বা চেয়ারম্যান নোটিস গ্রহণ করলে তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠন করা হবে। | |
| পাস করার শর্ত | উভয় কক্ষেই মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস হতে হয়। |
এর আগে ২০২৩ ও ২০২৬ সালের মে মাসে বিরোধীদের দেওয়া ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব কারিগরি ও আইনি কারণে খারিজ হলেও, এবার দুই কমিশনারের লিখিত বিরোধিতার নথি হাতে আসার পর বিরোধী জোট এটিকে আইনি ও রাজপথের মূল হাতিয়ার করতে চলেছে।


