আন্তর্জাতিক সংবাদ সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি:
পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার উঁচুতে কক্ষপথে থাকা একটি ভাঙা মার্কিন স্যাটেলাইটকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঠান্ডা যুদ্ধের শেষলগ্নে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার রেডার সিগন্যাল মনিটর করার জন্য গোপন মিশনে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল ‘ফারা থ্রি’ (USA-32) নামের স্পাই স্যাটেলাইটটি। প্রায় ৩৮ বছর পর সেই স্যাটেলাইটটি টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ার পাশাপাশি তার প্রধান অংশটি থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে এক অদ্ভুত ও রহস্যময় আলো।
ইউএস স্পেস কম্যান্ড (US Space Command) জানিয়েছে, এই আলো নির্গমনের কারণ তাঁদের কাছেও এক বড় ধাঁধা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও আলোর প্রকৃত উৎস অনুসন্ধানে আগামী অক্টোবরের শুরুতেই মহাকাশে একটি বিশেষ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
‘ফারা থ্রি’ স্যাটেলাইটের মূল পরিচয় ও বর্তমান সংকট
-
সাঙ্কেতিক নাম: ফারা রু (FARA RU) বা ফারা থ্রি (FARA-3)।
-
উৎক্ষেপণকাল ও মিশন: ১৯৮৮ সাল। পেন্টাগনের অধীনে সোভিয়েত ইউনিয়নের রেডার সিগন্যাল ও সামরিক কার্যকলাপের গতিবিধি রেকর্ড করাই ছিল এর প্রধান কাজ।
-
বর্তমান পরিস্থিতি: স্যাটেলাইটটি ভেঙে টুকরো হয়ে ৭৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ভেসে বেড়াচ্ছে। সাধারণত ভাঙা স্যাটেলাইটের খণ্ডাংশ মহাকাশে নিস্ক্রিয় হয়ে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু ফারাহ-থ্রি-র মূল টুকরোটি থেকে ক্রমাগত অদ্ভুত আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ জ্ঞানেশের ইস্তফা চেয়ে ক্রমশ বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে রাজ্যে রাজ্যে; জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পথে বিরোধীরা, মুখ খোলার দাবি এনডিএ শরিকদেরও
অক্টোবরেই প্রথম মহাকাশ ‘গ্রেফতারি’
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই আলো কীভাবে ও কেন তৈরি হচ্ছে তা জানতে আলোর উৎস বিশ্লেষণ বা তাকে ‘ক্যাপচার’ করা প্রয়োজন। এর জন্যই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ভাঙা উপগ্রহের অংশকে মহাকাশেই ধরে ফেলে কাবু করতে ‘পুলিশ স্যাটেলাইট’ পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
| অভিযানের বিশদ | বিবরণ |
| অভিযানের ধরণ | মহাকাশে ভেসে থাকা রহস্যময় উপগ্রহ-খণ্ডকে ধরে ফেলা (Space Capture/Arrest)। |
| পৌরহিত্য | ইউএস স্পেস কম্যান্ডের তত্ত্বাবধানে নাসা (NASA)। |
| সময়সূচী | চলতি বছরের অক্টোবরের শুরুতেই এই মহাজাগতিক মিশন শুরু হওয়ার কথা। |
মহাকাশের বর্জ্য ও পুরনো স্পাই স্যাটেলাইটের এই রহস্যময় আচরণ ভাবিয়ে তুলেছে বিজ্ঞানী মহলকে। অক্টোবরের এই নজিরবিহীন ‘গ্রেফতারি’ মিশনের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্বের মহাকাশবিজ্ঞানীরা।


