বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিনিধি:
মাঝ আকাশে ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে ওড়ার সময় ককপিটের ভেতরেই চরম হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়লেন দুই পাইলট! দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিভগামী ‘ফ্লাই দুবাই’-এর এক যাত্রীবাহী বিমানে ঘটে গেল এই অভূতপূর্ব ও বিপজ্জনক ঘটনা। পাইলটদের এই ধস্তাধস্তির জেরে মাঝ আকাশেই ছড়ায় বিমান ‘অপহরণে’র চরম ভুয়ো আতঙ্ক, যার জেরে যুদ্ধকালীন তৎপরতা তৈরি হয় ইসরায়েল প্রশাসনিক ও সামরিক অন্দরে।
অবশেষে জর্ডনের আকাশসীমা থেকে হঠাত পথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করে ১৮০ জন যাত্রীবোঝাই ওই বিমানটি।
৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে তাণ্ডব ও আচমকা উচ্চতা হ্রাস
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) ও ‘টাইমস অফ ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর কাছে বিমানটি থেকে হঠাৎ একটি আপৎকালীন বার্তা বা ডিসট্রেস সিগন্যাল পৌঁছায়।
-
হু হু করে নামল বিমান: ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিমানটি তখন ৩৪,০০০ ফুট উঁচুতে উড়ছিল। আপৎকালীন বার্তার পরপরই মাত্র ২ মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি দ্রুত ১৭,০০০ ফুট নিচে নেমে আসে।
-
ভুল বার্তা ও অপহরণের আতঙ্ক: ককপিটের ভেতরের গোলমাল ও পাঠানো বিভ্রান্তিকর সিগন্যালের কারণে বার্তা যায় যে বিমানটি হয়তো কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দ্বারা অপহৃত (Hijacked) হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘খাম’ হাতছাড়া, হাতে রইল ‘আলমারি’! হাই কোর্টে জোর ধাক্কা নওশাদের আইএসএফ-এর
ইসরায়েলে জরুরি বৈঠক ও বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান মোতায়েন
উন্মুক্ত আকাশে ১৮০ জন যাত্রীসহ ইসরায়েলগামী বিমান অপহরণের খবর চাউর হতেই তেল আবিভে শোরগোল পড়ে যায়:
| ঘটনাপ্রবাহ | প্রশাসনিক ও সামরিক পদক্ষেপ |
| বায়ুসেনার তৎপরতা | খবর পাওয়া মাত্রই ইসরায়েলি বায়ুসেনার একাধিক যুদ্ধবিমান (Fighter Jets) আকাশে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সংশ্লিষ্ট বিমানটিকে এসকর্ট বা সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। |
| প্রধানমন্ত্রীর হাইভোল্টেজ বৈঠক | পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক ডাকেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। |
সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ
পরে অবশ্য ইসরায়েল সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয় যে বিমান অপহরণের ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বিভ্রান্তিমূলক। জর্ডনের আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় পথ বদলে বিমানটি পাশের দেশ সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
১৮০ জন যাত্রী অলৌকিক ও অলৌকিকভাবে সুরক্ষিত থাকলেও, মাঝ আকাশে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কেন পাইলটদ্বয় হাতাহাতিতে জড়ালেন এবং কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে এই সংঘাত—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিমানসংস্থা ইতিমধ্যেই কড়া তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


