বিশেষ জাতীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি, দিল্লি:
দুই নির্বাচন কমিশনারের তীব্র আপত্তি ও দেশজোড়া রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে অবশেষে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত থেকে কমিশনের নিজস্ব পোর্টাল ‘ইসিআইনেট’ (ECINET)-এ ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ৬ নম্বর ফর্মের (Form 6) সেই বিতর্কিত অংশটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, সেগুলিতে নতুন ভোটারদের আর পিতা কিংবা পিতামহের এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে না।
গত শনিবার কমিশনের দেওয়া ঘোষণার ঠিক তিন দিন পর ১৯৬০ সালের ভোটার আইন অনুযায়ী তৈরি মূল চেহারার ৬ নম্বর ফর্মটি পোর্টালে পুনরায় কার্যকর করা হলো।
আরও পড়ুনঃ মাঝ আকাশে ককপিটে তুমুল মারামারি দুই পাইলটের! ইসরায়েলে জরুরি বৈঠক
ফর্মে কী পরিবর্তন হলো?
ডিজিটাল পোর্টালে আবেদনকারীদের জন্য পূর্বে নির্ধারিত ‘জে’ (J) এবং ‘কে’ (K) সেকশনটি আপাতত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
-
কাদের জন্য প্রযোজ্য: যে ১০টি রাজ্য এবং ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর পর্যায় শেষ হয়েছে, কেবল সেখানেই নতুন ভোটাররা পুরনো নিয়মে ফর্ম পূরণ করার ছাড় পাবেন।
-
কোথায় বদল হয়নি: দেশের যে ১৬টি রাজ্য এবং ৪টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখনও এসআইআর প্রক্রিয়া সচল রয়েছে, সেখানে আবেদনকারীদের এসআইআর-এর তথ্য প্রদান সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা বহাল রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ১০০ দিনের মাথায় ধাক্কা! কেরলে কংগ্রেসের ‘হিট’ ঝুলিতে বামেদের থাবা, উপনির্বাচনে এলডিএফ-এর জোরালো কামব্যাক
কমিশনের অন্দরে বিরোধ ও আইনি টানাফোড়েন
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে একচ্ছত্র ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে দুই কমিশনার—সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী একাধিকবার আপত্তি তুলেছিলেন।
দুই কমিশনারের ধারাবাহিক অসম্মতি এবং জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির লাগাতার প্রতিবাদের জেরেই কমিশন পোর্টাল থেকে ওই অংশটি তুলে নিতে বাধ্য হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


