বিশেষ জাতীয় সংবাদ প্রতিনিধি:
গদিতে বসার ১০০ দিন পার হতে না হতেই জোর চড় খেল কেরলের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) সরকার! সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হলেও, স্থানীয় সংস্থার উপনির্বাচনে আবার স্বমহিমায় ঘুরে দাঁড়াল বাম গণতান্ত্রিক জোট বা এলডিএফ (LDF)। কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত একাধিক এলাকা ছিনিয়ে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীসনের নবগঠিত সরকারকে বড়সড় চিন্তার মুখে ফেলে দিয়েছে বামেরা।
আরও পড়ুনঃ ‘হাত ধরাধরি’, লেনিন থেকে মার্ক্সে; মূর্তি ভাঙা আর রাস্তার নাম বদল রুখতে রাজপথ কাঁপাবে বামেরা!
ভোটের খতিয়ান ও আসনের হিসাব
কেরলের ১২টি জেলার মোট ৩৮টি ওয়ার্ডে আয়োজিত এই উপনির্বাচনের ফল বেরোতেই দেখা গেল, ব্যবধান সামান্য হলেও কংগ্রেসের চওড়া হাসিতে ছাই পড়েছে:
| জোট / দল | জয়ী ওয়ার্ডের সংখ্যা | পারফরম্যান্সের সারাংশ |
| ইউডিএফ (UDF – কংগ্রেস জোট) | ১৮ | ক্ষমতা ধরে রাখলেও জয়ের ব্যবধান মারাত্মক কমেছে। |
| এলডিএফ (LDF – বাম জোট) | ১৬ | কংগ্রেসের হাত থেকে ৭টি শক্ত ঘাঁটি ছিনিয়ে নিয়েছে। |
| এনডিএ (NDA – বিজেপি) | ১ | ১টি আসনে জয় লাভ করেছে। |
| নির্দল | ১ | ১টি ওয়ার্ড দখলে গেছে। |
কংগ্রেসের দুর্গে ধস ও বামেদের উত্থান
এই উপনির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখা গিয়েছে কংগ্রেসের হাত থেকে বামেদের ৭টি ওয়ার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, হাতছাড়া হওয়া দু’টি ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ছিলেন ইউডিএফ-এর বর্তমান দুই বিধায়ক!
-
এর্নাকুলাম ও কোট্টায়াম: কংগ্রেসের অজেয় দুর্গ বলে পরিচিত এর্নাকুলামে ৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টিই ছিনিয়ে নিয়েছে এলডিএফ। অন্যদিকে কোট্টায়ামের ৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টিতেই বাজিমাত করেছে বামেরা।
-
পালাক্কাড় ও ওয়েনাড: পালাক্কাড়ের ৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪টিতে জিতেছে এলডিএফ। ওয়েনাড ও কোঝিকোড়ে ইউডিএফ জিতলেও তাদের আগের জয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে তলানিতে ঠেকেছে।
-
ইউডিএফ-এর স্বস্তি: একমাত্র পথনমথিট্টা জেলার সবকটি উপনির্বাচন হওয়া ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে ইউডিএফ।
আরও পড়ুনঃ হায়দরাবাদে বিরাট জয় বামেদের, ‘জোড়া শালিক’ দেখতেই ডানা ছাঁটা গেল এবিভিপির
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বার্তা
ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মাথায় এই উপনির্বাচন ছিল মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীসনের জন্য প্রথম বড় অ্যাসিড টেস্ট। কিন্তু এই রায়ে স্পষ্ট যে ইউডিএফ-এর ওপর থেকে সাধারণ মানুষের মোহভঙ্গ হতে শুরু করেছে।
ঘটনায় দারুণ চাঙ্গা বাম শিবির। সিপিআইএম নেতা এম ভি গোবিন্দন ফলাফলের পর কটাক্ষ সুরে বলেন:
“কেরলের বুক থেকে যে বামপন্থীদের অত সহজে মুছে ফেলা যায় না, এই উপনির্বাচনের ফলই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।”
১০০ দিনের মাথায় এই ফল উদযাপনের দিনে কংগ্রেসের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই!


