বিশেষ প্রতিনিধি, সিউড়ি:
একদা বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই সিউড়ির পার্টি কার্যালয়ে ঢুকে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালাল দুই যুবক। চেয়ারে অনুব্রতকে বসিয়ে রেখে তাঁরই চোখের সামনে টেবিল-চেয়ার থেকে শুরু করে এয়ার কন্ডিশনার (AC) পর্যন্ত ডান্ডা দিয়ে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। যুবকদের হাঁকানো লাঠির আঘাতে টেবিলের কাচ ভেঙে ঠিকরে গিয়ে লাগে স্বয়ং কেষ্টর গায়ে।
বুধবার বিকেলে সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই অভূতপূর্ব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র জেলা রাজনীতিতে মারাত্মক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এসআইআর ইস্যুতে সরব আরএসপি; সিইসি-র ইস্তফার দাবিতে কলকাতার রাজপথে বিক্ষোভ
অত্যাচারের অভিযোগ ও ‘গরুচোর’ কটাক্ষ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরেই সিউড়ির এই দলীয় কার্যালয়ে এসে নিয়মিত বসছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। বুধবার বিকেলে হাতে গাছের ডাল ও লাঠি নিয়ে আচমকা সেখানে চড়াও হয় দুই যুবক।
-
১৫ বছরের ক্ষোভ: অফিসে ঢুকেই দুই যুবক অনুব্রতকে লক্ষ্য করে সুর চড়িয়ে বলতে থাকেন, গত ১৫ বছর ধরে তিনি বীরভূমবাসীর ওপর চরম অত্যাচার চালিয়েছেন। এমনকি অনুব্রতকে ‘গরুচোর’ বলে সোজা কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়া হয়।
-
শান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা: পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনুব্রত হাত নেড়ে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করে বলেন, “আমার একটা কথা শোন।” কিন্তু উত্তেজিত এক যুবক মুখের ওপর জবাব দেন, “আর একটা কথাও না।” এ কথা বলেই ডাল দিয়ে সামনের কাচের টেবিলে সজোরে মারেন তিনি।
‘খুন করলে তো একবারে শেষ’: অফিসে তাণ্ডবের চিত্র
অনুব্রতের সঙ্গে উপস্থিত দলীয় সঙ্গীরা যখন তাণ্ডব দেখে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন হামলাকারীদের সঙ্গে অনুব্রতের বাকবিতণ্ডা চরম আকার নেয়।
| হামলাকারী যুবকদের বক্তব্য | অনুব্রত মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া |
| “লোকগুলোকে কেন মেরে এসেছিলে?” | চেয়ারে টানটান হয়ে বসে উত্তর: “কাকে মেরেছি বলো।” |
| “কী! দেখাব? দেখাব কাকে কাকে মেরেছেন।” | মাথা নেড়ে স্থির ভঙ্গিতে বলেন: “দেখাও না, দেখাও।” |
| “এখান থেকে আর বেরোতে দেব না। খুন করলে তো একবারে শেষ… আপনি এখানে বসেন কী জন্য?” | মুখে আলতো হাসি ধরে রেখে হাত নেড়ে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান অনুব্রত। |
আরও পড়ুনঃ ডানকুনি টোল প্লাজার সামনে শতরূপ ঘোষের গাড়িতে লরির ধাক্কা; তিনি সুস্থ, চক্রান্তের জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও অভিযুক্তদের আটক
বেশ কিছু সময় ধরে পার্টি অফিসে এই নারকীয় তাণ্ডব চলার পর সিউড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকেরা ভেতরে ঢুকে আক্রমণকারী দুই যুবককে নিরস্ত্র করেন এবং তাঁদের হাত থেকে ডান্ডা কেড়ে নেন।
কার্যালয়ের বাইরেও ওই যুবকদের কয়েকজন সঙ্গী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে বলতে থাকেন, “এত অত্যাচার করেছে, একে ছেড়ে দেব?” শেষ পর্যন্ত পুলিশ বল প্রয়োগ করে অভিযুক্তদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
আক্রমণকারী যুবকরা কোনো নির্দিষ্ট বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী নাকি স্থানীয় কোনো বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সম্পূর্ণ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।


