দিল্লি এবং মুম্বইয়ের সাফল্যের পর এবার উত্তর ও পশ্চিম ভারতের সীমা ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাকে আন্দোলনের নতুন কেন্দ্রবিন্দু করতে চলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। নির্বাচন কমিশন পরিচালিত বিতর্কিত ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR) বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে দুর্গাপুজোর পরপরই কলকাতায় এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশের পরিকল্পনা নিয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবিত কর্মসূচি সফল করতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গেও অভিজিৎ দীপকেরা আলাদাভাবে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ মিথ্যা প্রচারের জালে ‘বঙ্গ পিসি’; ২১-এ পা ভাঙেনি মমতার! উপনির্বাচন মিটলেই পদক্ষেপ শুরু
তৃণমূলের সহযোগিতার প্রস্তাব ও বামেদের কটাক্ষ
কলকাতায় সিজেপির প্রস্তাবিত সমাবেশ নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে:
-
তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা: ইতিপূর্বে নিট (NEET) ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সিজেপি কলকাতায় পথসভার ডাক দিলেও অনুমতি মেলেনি। এবার সিইসির ইস্তফা ও এসআইআর ইস্যুতে আন্দোলন বড় আকার দিতে সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলছেন সিজেপি আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে।
-
সৃজন ভট্টাচার্যের তীব্র কটাক্ষ: সিজেপির এই উদ্যোগে তৃণমূলের সম্ভাব্য সহযোগিতার জল্পনা ছড়াতেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সিপিআই(এম)। এসএফআই-এর (SFI) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, “স্যান্ডো গেঞ্জির আবার বুকপকেট! ওদের দলে আবার কতজন লোক আছে যে তৃণমূল তাদের সহযোগিতা করবে?”
আরও পড়ুনঃ ‘হামলা চাইছেন? তাহলে হামলাই হবে!’; পাক সেনাকর্তার বিতর্কিত উক্তিতে ভারত-পাক সীমান্তে ফের বাড়ল পারদ
১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তর ও কলকাতার ভবিষ্যৎ আন্দোলন
আন্দোলনকে জাতীয় স্তরে পৌঁছে দিতে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচি সাজাচ্ছে সিজেপি:
| কর্মসূচি ও স্থান | রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতি |
| ১০ অক্টোবর (নয়া দিল্লি, যন্তর মন্তর) | দিল্লি চলো কর্মসূচির অধীনে যন্তর মন্তরে গণ-অবস্থান। এই কর্মসূচিকে ইতোমধ্যেই পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এসএফআই ও অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠন। |
| দুর্গাপুজো পরবর্তী (কলকাতা) | পুজো মিটলেই কলকাতার বুকে বড় রাজনৈতিক জনসভার পরিকল্পনা। স্থান ও দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে বাম ও শাসক শিবিরের ছাত্র-যুব সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে। |
এসএফআই নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে যে, দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট থেকে শুরু করে সিজেপির প্রতিটি ছাত্রমুখী আন্দোলনে তারা যেমন যৌথভাবে লড়াই করছে, তেমনই কলকাতার সমাবেশের ক্ষেত্রেও তাদের রাজ্য নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তৃণমূলের সঙ্গে সিজেপির সখ্যতার জল্পনা বিরোধী বাম শিবিরকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।


