বিশেষ জাতীয় অপরাধ ও প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি:
যৌনতার ফাঁদে (Honeytrap) পড়ে নৌসেনার কৌশলগত ও অতি-সংবেদনশীল গোপন তথ্য পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো এক নৌসেনাকর্মীকে। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বত্তূর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (CI) সেল শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করে। ধৃতের নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, যিনি মূলতঃ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।
বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌসেনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে কর্মরত প্রদীপ সম্প্রতি কোয়েম্বত্তূরের ‘আইএনএস অগ্রণী’ (INS Agrani)-তে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সে যোগ দিতে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ এটা কি ট্রেলার; সারপ্রাইজ হোডিংটা কি পুজোর সময় রিলিজ হবে? নয়া প্রস্তুতি মার্ক্সবাদীদের
সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় ও হানিট্র্যাপের জাল
তদন্তকারী সূত্রের বরাতে প্রকাশ, মাস কয়েক আগে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদীপের সঙ্গে পরিচিত হয় এক ভুয়ো পরিচয়ধারী ‘মহিলা’:
-
বন্ধুত্ব ও বিশ্বাস অর্জন: সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় জমিয়ে ক্রমশ প্রদীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় ওই ব্যক্তি বা চক্র। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তকে ব্ল্যাকমেইল ও যৌনতার জালে ফাঁসিয়ে বিশ্বস্ততা তৈরি করা হয়।
-
তথ্য পাচার: বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির কৌশলগত সম্পদ, নৌবহরের গতিবিধি, আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও চালন ব্যবস্থা সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় প্রতিরক্ষা নথি অনলাইনের মাধ্যমে ওই পাক গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কাছে পাঠাতে থাকেন ধৃত।
আরও পড়ুনঃ সুমিত রায় ফের ২ দিনের পুলিশি হেফাজতে; কালীঘাটের বাসিন্দাদের নামে একাধিক সিম ব্যবহার
কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরদারি ও গ্রেফতারি
অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের অ্যান্টি-টেরর ও স্পেশাল ট্র্যাকিং বিভাগ ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমেই এই আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ধরে ফেলে:
| বিষয় / ক্ষেত্র | প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তদন্ত প্রক্রিয়া |
| নজরদারি | ডিজিটাল ট্র্যাফিক বিশ্লেষণের সময় বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির সংবেদনশীল তথ্যের সন্দেহজনক আদান-প্রদান নজরে আসে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স দলের। |
| গ্রেফতারি | সন্দেহ সুনিশ্চিত হতে প্রদীপের গতিবিধির ওপর ট্র্যাকিং শুরু হয়। এরপর নৌসেনা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিয়ে কোয়েম্বত্তূরের রেড ফিল্ডস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। |
| বর্তমান তদন্ত | প্রদীপ কতখানি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন এবং এর বিনিময়ে কোনো ক্রিপ্টো বা আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। |
২০১৪ সালে ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দেওয়া এই বঙ্গসন্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও চরবৃত্তির অভিযোগ ওঠায় যৌথভাবে আইবি (IB) এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করছে।


