বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
শারদোৎসবের ঠিক মুখে দক্ষিণ কোলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌবাগায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। ধাপা বাইপাস এরিয়া কমিটির অন্তর্গত দীর্ঘ ৫১ বছরের পুরোনো সিপিআই(এম) (CPI-M) পার্টি অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে ঢ ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো এবং অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীদের সূত্রে খবর, অগ্নিকাণ্ডের ফলে পার্টি অফিসের ভেতরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি, আসবাবপত্র ও দলীয় ব্যানার-পতাকা ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার গভীর রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চৌবাগা ও পার্শ্ববর্তী ইএম বাইপাস এলাকা।
ঘটনার বিবরণ ও পূর্ব শত্রুতার অভিযোগ
বাম নেতৃত্বের দাবি, হঠাৎ করে ঘটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটি, বরং বিগত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছিল এই ঐতিহাসিক দলীয় কার্যালয়ে:
-
পূর্ববর্তী তালা বন্ধের ঘটনা: সিপিআই(এম) স্থানীয় এরিয়া কমিটির অভিযোগ, গত দু’দিন আগেই বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গায়ের জোরে ৫১ বছরের পুরোনো এই কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়।
-
গভীর রাতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ: গতকাল গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা সেই তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং তাণ্ডব চালিয়ে আগুন ধরিয়ে চম্পট দেয়। ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখে স্থানীয় অধিবাসীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান।
আরও পড়ুনঃ উত্তাল দিল্লি; রাজধানীর রাজপথে রাজত্ব বিরোধীদের, চরম আকার ধারণ করেছে দেশব্যাপী আন্দোলন
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অবস্থান
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরিয়া কমিটি ও স্থানীয় বিরোধী শিবিরের লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে:
| রাজনৈতিক শিবির | বক্তব্য ও পালটা দাবি |
| সিপিআই(এম) (CPI-M) | “যদি বিজেপি ভেবে থাকে এভাবে আগুন লাগিয়ে বা ভাঙচুর করে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে, তবে তারা ভুল স্বর্গে বাস করছে। সিপিআই(এম) নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকবে না, এর যোগ্য আইনি ও রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হবে।” |
| বিজেপি (BJP) | অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই ঘটনার সাথে তাদের দলের কোনো কর্মী জড়িত নয়। সিপিআই(এম)-এর ভেতরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিকভাবে প্রচারের আলোয় আসার জন্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপির ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। |
ঘটনার পর আনন্দপুর ও সংলগ্ন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।


