Monday, 5 October, 2026
5 October
HomeদেশCJP: যৌথমঞ্চের ডাক রাহুলের, তবু কংগ্রেস-সিজেপি দ্বন্দ্ব? ‘সংবিধানের ঠিকাদার’, কটাক্ষ দীপকের

CJP: যৌথমঞ্চের ডাক রাহুলের, তবু কংগ্রেস-সিজেপি দ্বন্দ্ব? ‘সংবিধানের ঠিকাদার’, কটাক্ষ দীপকের

বিজেপির মতো সুসংগঠিত দলের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে চূড়ান্ত জায়গায় নিয়ে যেতে হলে রাহুলের উদ্যোগের পাশাপাশি অবিলম্বে কংগ্রেস ও সিজেপি-র এই অনভিপ্রেত অহমের লড়াই বন্ধ হওয়া জরুরি।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ জাতীয় ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি:

বিরোধী শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্বে বরাবরই বাড়তি রাজনৈতিক ফায়দা তোলে শাসকদল। অতীতে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ভেতরের ফাটল বারবার জাতীয় রাজনীতিতে চর্চার বিষয় হয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্র সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দিল্লি থেকে শুরু করে দেশজুড়ে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি), কংগ্রেস এবং বামেরা আন্দোলনে নামলেও, বিরোধীদের সেই ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ গড়ার চেষ্টায় ফের বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

একদিকে রাহুল গান্ধী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতিবাদকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এনে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহৎ মঞ্চ গড়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন; অন্যদিকে, মাঠপর্যায়ে কংগ্রেস ও সিজেপি নেতৃত্বের চরম কদর্য কাজিয়া প্রকাশ্যে চলে এল।

আরও পড়ুনঃ  ‘পুলিশের কিসের ভয়?’ সাংবাদিক নিগ্রহে সুর চড়ালেন রাহুল

অসম থেকে রাহুলের ‘ডিজিটাল সত্যাগ্রহ’: বিরোধীদের এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা

গত ৩ অক্টোবর থেকে বিশেষ আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ডিজিটাল সত্যাগ্রহ’ শুরু করেছেন রাহুল গান্ধী। বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদগুলোকে একত্রিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বার্তা দেন—সংসদে কিংবা রাজপথে, যেখানেই আন্দোলনের প্রয়োজন হবে, সেখানেই তিনি পাশে থাকবেন।

তবে রাহুলের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাঝেই অসমের এক স্কুল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কংগ্রেস ও সিজেপি নেতাদের বিবাদ চলতি সপ্তাহে চরম আকার ধারণ করেছে।

‘সংবিধানের ঠিকাদার’: কংগ্রেসকে নিশানা সিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের?

আন্দোলনের রাশ ও কৃতিত্ব কার হাতে থাকবে—এই নিয়ে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং কংগ্রেস শিবিরের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছিলই। তবে সম্প্রতি তা বিস্ফোরণের রূপ নেয় সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিতর্কিত বক্তব্যে:

  • ‘স্বঘোষিত উদারপন্থী ইকোসিস্টেম’ তোপ: সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস নাম না করে এক ‘স্বঘোষিত উদারপন্থী গোষ্ঠী’র দিকে আঙুল তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীটি সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকেকে ছোট করার চেষ্টা করছে এবং নিজেদের দেশ ও সংবিধানের একমাত্র ‘ঠিকাদার’ বলে মনে করছে।

  • বিজেপির বাইরের ‘অন্য দল’: সৌরভ দাস সরাসরি কংগ্রেসের নাম উচ্চারণ না করলেও ‘বিজেপি ছাড়া অন্য একটি দল’ বলে নিশানা করেন। কংগ্রেসের নিম্নাংশের নেতা-কর্মীরা এই মন্তব্যকে নিজেদের দলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ বলেই ধরে নিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সর্বসম্মত না হলে পুরো SIR বাতিল; কেন্দ্র ও কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের ১ সপ্তাহের আল্টিমেটাম

আন্দোলনের কৃতিত্ব লড়াই ও বিরোধী শিবিরের বিপদ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সিজেপি এবং কংগ্রেস উভয় দলই মূল আন্দোলনকারী হলেও, একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার লড়াই চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে।

বিষয় / ক্ষেত্র কংগ্রেস ও সিজেপি সংঘাতের রূপরেখা
মূল আন্দোলনের বিষয় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR), সিইসির পদত্যাগ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার নিয়ে উভয়েরই এক সুর।
সংঘাতের মূল কারণ আন্দোলনের রাশ কার হাতে থাকবে, জাতীয় প্রচারের লাইমলাইট কে পাবে এবং কে আন্দোলনের মূল মুখ—তা নিয়ে দ্বন্দ্ব।
রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, ১০ অক্টোবরের দিল্লির আন্দোলন ও আসন্ন ভোটের আগে বিরোধীদের এই কাদা ছোড়াছুড়ি বিজেপি তথা শাসক দলকেই সরাসরি অক্সিজেন জোগাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য—বিজেপির মতো সুসংগঠিত দলের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে চূড়ান্ত জায়গায় নিয়ে যেতে হলে রাহুলের উদ্যোগের পাশাপাশি অবিলম্বে কংগ্রেস ও সিজেপি-র এই অনভিপ্রেত অহমের লড়াই বন্ধ হওয়া জরুরি।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন