বিশেষ মেদিনীপুর ও নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি:
রেজিনগরের উত্তাপের পাশাপাশি মঙ্গলবার সকাল থেকেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি উপনির্বাচন চলাকালীন পূর্ব মেদিনীপুরের হেভিওয়েট আসন নন্দীগ্রামে। সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই নন্দীগ্রামের সুভানি চক ও ভেড়ুতিয়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা ও ভোটলুটের অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান ও তাঁর শিবির।
সুভানি চক এলাকায় দেখা যায়, লাইন থেকে একের পর এক মহিলা ভোটারকে ভোট না দিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। আক্রান্ত মহিলাদের অভিযোগ, বুথের ঠিক বাইরে বিজেপির স্থানীয় ক্যাডাররা তাঁদের হাত থেকে জোরপূর্বক ভোটার স্লিপ কেড়ে নিয়েছে এবং ভয় দেখিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রেজিনগরে আটক হুমায়ুন কবীর, তর্কাতর্কির পর বিধায়ককে টেনে হিঁচড়ে থানায় নিয়ে গেল পুলিশ
“আমার স্লিপ কেড়ে নিল, ভোটই দিতে পারলাম না”: কাঁদো কাঁদো মহিলারা
সুভানি চকে বুথ থেকে কান্নাকাটি করতে করতে ফিরে যাওয়া এক ভুক্তভোগী মহিলা সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,
“আমার হাতের ভোটার স্লিপ কেড়ে নিয়েছে। বিজেপির লোকজন এই কাজ করছে। আমরা ভোটটা তাই দিতে পারলাম না, ভয় দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিল।”
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে সরাসরি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের মুখ্য নির্বাচন এজেন্ট সুব্রত মহাপাত্র।
বুথে বহিরাগত তাণ্ডব ও ভোটার বাধার একগুচ্ছ নালিশ
কংগ্রেসের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে নন্দীগ্রামের একাধিক বুথের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে:
| এলাকা ও বুথ নম্বর | কংগ্রেসে জমা দেওয়া অভিযোগের সারমর্ম |
| ভেড়ুতিয়া (২৮ ও ২৯ নম্বর বুথ) | আসল ভোটারদের জোর করে সরিয়ে দিয়ে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে ছাপ্পা ও ‘প্রক্সি’ ভোট দেওয়ানোর অভিযোগ। |
| ভেড়ুতিয়া (৯৬ নম্বর বুথ) | প্রকৃত ভোটাররা লাইনে দাঁড়ালেও তাঁদের বুথের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া ও হুমকি প্রদর্শনের নালিশ। |
| আমদাবাদ-২ (১৬৭ নম্বর বুথ, কামালপুর) | বুথমুখী রাস্তায় ব্যারিকেড গড়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে পথেই আটকে দেওয়ার অভিযোগ। |
“কংগ্রেস হাওয়া গরম করতে মিথ্যাচার করছে”: সুকান্ত মজুমদার
কংগ্রেস প্রার্থীর এই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ও রি-পোলিংয়ের দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন:
“আইনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু নিয়ম পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে মানতেই হয়। বাংলায় তো কংগ্রেসের কোনো অস্তিত্বই নেই, ওরা তো প্রতিযোগিতাতেই নেই! কংগ্রেস ধুয়ে জল খায় নাকি? ভোটের বাজারে শুধু একটু হাওয়া গরম করার জন্যই এসব নাটক আর মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করছে।”
আরও পড়ুনঃ ‘শ্লীলতাহানির পুরস্কার?’, সাংবাদিকদের যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের পদোন্নতি! গর্জে উঠলেন রাহুল-বৃন্দা
রেজিনগর থানার সামনে ধর্নায় কংগ্রেস প্রার্থী, পুনর্নির্বাচনের দাবি
অন্যদিকে, রেজিনগরে শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশি তাণ্ডব ও আজুপ বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে আটক করার ঘটনার প্রতিবাদে এবার রেজিনগর থানার সামনে ধর্নায় বসে পড়েছেন রেজিনগরের কংগ্রেস প্রার্থী। উপনির্বাচনে নিরপেক্ষতা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়েছে দাবি করে অবিলম্বে আজুপ ও কংগ্রেস—উভয় পক্ষই রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের একাধিক বিতর্কিত বুথে ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের (Re-poll) দাবি জানিয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বুথ দখল ও পুলিশি তাণ্ডবের জোড়া অভিযোগ উপনির্বাচনের দিনেই রাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর আবার বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিল।


