বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি:
মঙ্গলবার রাজপথের সাড়ে ৯ ঘণ্টার টানটান নাটকীয়তা, দিল্লি পুলিশের হাতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের আটক ও মুক্তির পর মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে ইন্ডি (INDIA) জোটের সাংসদদের দিনভর হুলুস্থুল বিক্ষোভের পর দিনের শেষে একটি কড়া বিবৃতি জারি করেছে কমিশন। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর তোলা যাবতীয় দাবিকে ‘বেমক্কা, অস্বাভাবিক ও নিয়মবিরুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
মকরদ্বার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলেরা শামিল হলেও আম আদমি পার্টি (AAP) এবং ডিএমকে (DMK)-র কোনো প্রতিনিধিকে মিছিলে দেখা যায়নি। দিনভর রাজপথে ধর্ণার পর রাত ৮টায় পুলিশি বলপ্রয়োগে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঘণ্টা দুয়েক পর রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ আকাশবাণী ভবন থেকে আটক রাহুল-প্রিয়ঙ্কা; বিরোধী দলনেতাকে ‘টেনেহিঁচড়ে’ বাসে তোলে পুলিশ
“বিকাল ৪টে পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়নি, হঠাৎ অ্যানেক্সে বৈঠকের বাহানা”: কমিশনের যুক্তি
কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের শর্তে ধর্না প্রত্যাহারের যে প্রস্তাব বিরোধীরা দিয়েছিলেন, তা নাকচ করে নির্বাচন কমিশন বিবৃতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে:
-
সময় না চাওয়ার নালিশ: কমিশনের দাবি, বিকেল ৪টে পর্যন্ত ইন্ডি জোটের কোনো অনুমোদিত প্রতিনিধির তরফ থেকে ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য কোনো লিখিত সময় বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাওয়া হয়নি।
-
সংসদের অ্যানেক্স ভবনের প্রস্তাব নাকচ: বিকেল ৪টের পর দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে খবর আসে যে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ২৪০ জন সাংসদ সংসদের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে কমিশনের ফুল বেঞ্চকে ডেকে পাঠিয়ে স্মারকলিপি দিতে চান।
-
প্রোটোকল ও নিয়মাবলী: সিইসি জ্ঞানেশ কুমারদের বক্তব্য, অ্যানেক্স ভবনে গিয়ে কমিশনারদের বৈঠক করার দাবি সম্পূর্ণ বেআইনি। যেকোনো রাজনৈতিক দলকে স্মারকলিপি দিতে হলে নির্বাচন সদনেই আসতে হবে, বাইরে বৈঠক প্রোটোকল বহির্ভূত।
কমিশনের ফুল বেঞ্চ বনাম ইন্ডি জোটের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
| বিষয় | বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অবস্থান | নির্বাচন কমিশনের (ECI) পাল্টা যুক্তি |
| বৈঠকের স্থান | সিইসি জ্ঞানেশ কুমার সহ পুরো বেঞ্চকে সংসদের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আসতে হবে। | কমিশনের ফুল বেঞ্চ বাইরের কোনো ভবনে বৈঠক করবে না, প্রোটোকল মেনে কেবল নির্বাচন সদনেই বৈঠক সম্ভব। |
| স্মারকলিপি প্রদান | প্রায় ৩০০ জন সাংসদ সশরীরে উপস্থিত হয়ে সিইসি-র হাতে সরাসরি স্মারকলিপি দেবেন। | ২০২৫ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী যৌথ প্রতিনিধি দলের ক্ষেত্রে আগে থেকে লিখিত আবেদন জানিয়ে দু’পক্ষের সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ বাধ্যতামূলক। |
| ঘটনার নির্যাস | সিইসি বিরোধীদের মুখোমুখি হতে ভয় পেয়ে পুলিশের পেছনে লুকিয়ে আছেন। | বিরোধীদের সারাদিনের মেগা শো এবং দাবিদাওয়া পুরোটাই নিয়মবিরুদ্ধ ও পূর্বপরিকল্পিত নাটক। |
আরও পড়ুনঃ ভোটচুরির নায়ক সিইসি-র বরখাস্তের দাবিতে রাষ্ট্রপতির দুয়ারে ইন্ডিয়া, সাড়ে ৮ ঘণ্টা রাজপথে ধর্নার পর ধৃত রাহুল-প্রিয়াঙ্কা!
‘নিয়ম ভাঙার নাটক বন্ধ হোক’: তোপ নির্বাচন সদনের
কমিশনের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০২৫ সাল থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির জন্য বৈঠকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি রয়েছে। কোনো দল একক বা যৌথভাবে দেখা করতে চাইলে আগে থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
কমিশনের পক্ষ থেকে সাংসদদের স্মারকলিপি গ্রহণ করতে একজন সিনিয়র অফিসারকে সংসদে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিরোধী জোট তা প্রত্যাখ্যান করে। বস্তুত, কমিশন বোঝাতে চেয়েছে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডি জোট সারাদিন দিল্লিতে যে অচলাবস্থা তৈরি করল, তার পুরোটাই নির্বাচন কমিশনের নিয়মকানুন ও সাংবিধানিক পরিকাঠামোকে তোয়াক্কা না করে করা রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।


