বিশেষ ক্রীড়া প্রতিনিধি:
মোহনবাগান – ১ (জেলকোভিচ) : ইস্টবেঙ্গল – ০
২৩ আগস্ট থেকে ৮ অক্টোবর—দেড় মাসের ব্যবধানে বদলাপুর সম্পন্ন হলো কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারের ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই আইএফএ শিল্ড (IFA Shield) ফাইনালে লাল-হলুদ ব্রিগেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক প্রতিশোধ নিল মোহনবাগান। ১৯৭৭ সালে শেষবার ঠিক এই ১-০ ব্যবধানেই ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে শিল্ড জিতেছিল বাগান। ৪৯ বছর পর আবার সেই একই ফল, একই ইতিহাস! ইস্টবেঙ্গলকে স্তব্ধ করে এই নিয়ে ২২ বার আইএফএ শিল্ড নিজেদের তাঁবুতে তুলল সবুজ-মেরুন। একই সাথে ১৯৭৬ সালের পর আবার একই মরশুমে কলকাতা লিগ ও আইএফএ শিল্ড—দুই ট্রফিই ঘরে এল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের।
আরও পড়ুনঃ পরপর ৭টি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল মুলুন্ড; অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছে বাণিজ্য নগরী মুম্বাই
প্রথমার্ধের লড়াই: লাচেনপার প্রতিরোধ ভেঙে জেলকোভিচের ডেডলক
মরশুমের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে দুই দলের লড়াই সমানে সমানে হলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ইস্টবেঙ্গল কিছুটা এগিয়ে থেকেই মাঠে নেমেছিল। তবে বড় ম্যাচের ভাগ্য যে আগাম লেখা যায় না, তা ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
-
৬ মিনিট (ইস্টবেঙ্গলের সুযোগ নষ্ট): রামিরেজের পাস থেকে বক্সে ঢুকে এডমুন্ডের নেওয়া ডান পায়ের শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন বাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ।
-
১৫-৩৭ মিনিট (সবুজ-মেরুন আক্রমণ): লি এরউইনের আক্রমণ, জেলকোভিচের পাসে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের দূরপাল্লার বুলেট শট এবং সাহাল আব্দুল সামাদের নিচু হাফ-ভলি দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে খেলায় রাখেন ফুরবা লাচেনপা।
-
৪৫ মিনিট (কাঙ্খিত গোল): বিরতির ঠিক আগে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের মারাত্মক ভুলে বল পান সাহাল। তাঁর চিপ করা বল ধরে বক্সে ঢুকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার তারকা ফুটবলার জেলকোভিচ ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে সবুজ-মেরুনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধ: হাবাসের ব্যর্থ স্ট্র্যাটেজি ও কাইথের প্রাচীর
প্রথমার্ধে আনোয়ার আলির অনুপস্থিতি লাল-হলুদ রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস নামান পিভি বিষ্ণু, আকে লোবা এবং পরে ডেভিডকে। তবে মোহনবাগান কোচ পানোসের রক্ষণের ফাঁদ পেরোনো সম্ভব হয়নি।
| ম্যাচের মিনিট | গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ |
| ৫৮–৭১ মিনিট | হাবাস একের পর এক আক্রমণাত্মক বদল (বিষ্ণু, লোবা, ডেভিড) করলেও খেলায় সেই ধার দেখা যায়নি। |
| ৬৭ মিনিট | ইস্টবেঙ্গলের পোলিশ স্ট্রাইকার জিওলিনস্কির জোরালো হেড নিশ্চিত গোলের দিকে গেলেও অসাধারণ রিফ্লেক্সে বাঁচান বিশাল কাইথ। |
| শেষ মুহূর্ত | রশিদের ফ্রি-কিক মানবপ্রাচীরে আটকে যায়। ক্লান্ত ও ছন্দহীন ফুটবল খেলে ১-০ ব্যবধানে হার স্বীকার করে ইস্টবেঙ্গল। |
আরও পড়ুনঃ মহানন্দার ঘাট থেকে হিলকার্ট রোড; DYFI-এর মিছিলে উত্তাল শিলিগুড়ির রাজপথ
নতুন কোচ পানোসের প্রথম খেতাব
ডুরান্ড ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা এডমুন্ডকে এই ম্যাচে কার্যত বোতলবন্দি করে রাখে সবুজ-মেরুন রক্ষণ। অন্যদিকে সন্দীপ মান্ডির সাথে ধাক্কা লেগে মাথা ফাটার পরও রক্তাঙ্কিত দ্রাজিচের অনবদ্য ফেয়ার ট্যাকেল ও লড়াকু মানসিকতা সবুজ-মেরুন সমর্থকদের হৃদয় জিতে নেয়।
মোহনবাগানের নতুন কোচ পানোসের কোচিংয়ে এটিই প্রথম বড় ট্রফি জয়। ২০২৫-এর সাফল্যের পর ২০২৬-এও আইএফএ শিল্ড ধরে রেখে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল সবুজ-মেরুন শিবির। ডুরান্ড হারের বদলা নিয়ে এবং একই সাথে ৪৯ বছরের ইতিহাস ফিরিয়ে এখন উদযাপনে মত্ত গঙ্গার পশ্চিম পার।


