বিশেষ আন্তর্জাতিক ও প্রযুক্তি প্রতিনিধি:
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিঙ্ক’ (Starlink) চালুর অনুমোদন নিয়ে বিগত কয়েক বছরের টানাপোড়েন এবার রূপ নিল প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও শিল্পসংঘাতে। প্রযুক্তি ধনকুবের ইলন মাস্কের সরাসরি ‘অম্বানী নিশানা’ এবং তার জবাবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া বিশ্ব রাজনীতি ও ভারতীয় শিল্পমহলে এক নতুন শোরগোল তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ আজ ‘নিয়মরক্ষা’র ভোটের ফল; ৬ মাসে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ল না কমল
“১৬৫ দেশে অনুমোদিত, ভারতে কেন নয়?”: মাস্কের তোপ
বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’ (X)-এ একগুচ্ছ পোস্ট করে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন স্পেসএক্স (SpaceX) ও স্টারলিঙ্কের কর্ণধার ইলন মাস্ক।
-
আইন মানার দাবি: মাস্ক লেখেন, “স্টারলিঙ্ক বিশ্বজুড়ে ১৬৫টিরও বেশি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত। গত ৫ বছর ধরে ভারত সরকারের সমস্ত নিয়ম ও শর্তাবলি কঠোরভাবে মেনে চলেও এখনও কেন লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না?”
-
স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বাধা: এর পরেই নেটিজেন অনিরুদ্ধ মালপানির পোস্ট শেয়ার করে মাস্ক সরাসরি প্রশ্ন তোলেন— “অম্বানী কি ভারতের আসল মালিক?” তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী অলিগার্ক বা শিল্পপতি নিজেদের মনোপলি বা একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতেই স্টারলিঙ্কের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে, যা ভারতীয় সাধারণ মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে অপরাধ।
“আসল অন্য জনকে চিনতে বাকি আছে!”: রাহুলের টিপ্পনি ও মাস্কের উত্তর
মাস্কের এই বিস্ফোরক পোস্ট নজরে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আসরে নামেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মাস্কের পোস্টটি শেয়ার করে রাহুল কটাক্ষের সুরে লেখেন:
রাহুল গান্ধীর পোস্ট:
“ভারতে স্বাগত ইলন। অন্য জনকে আবিষ্কার না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন!”
রাহুলের এই ‘অন্য জন’ (other guy) মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি নাম না করে কেন্দ্রের শাসক শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অপর শীর্ষ শিল্পপতি গৌতম আদানি-কে বিঁধেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাহুলের এই টিপ্পনির জবাব দিতে সময় নেননি মাস্কও। রাহুলের পোস্টের উত্তরে তিনি লেখেন— “ধন্যবাদ রাহুল। ঘটনাটি সত্যিই বেশ চিন্তার (This is indeed troubling)।”
আরও পড়ুনঃ আশ্বাসের বাস্তবায়ন নাকি প্রশাসনিক দ্বন্দ্বে বন্দি রাজ্য? বাংলায় প্রায় ৬ মাসের বিজেপি সরকারের কাজের খতিয়ান ও রাজপথের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রক ও রিলায়েন্সের পাল্টা অবস্থান
মাস্ক ও বিরোধীদের এই সুর চড়ানোর পর সরকারের পক্ষেও দ্রুত অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।
| পক্ষ | বক্তব্য ও আইনি অবস্থান |
| কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রক | টেলিকম প্রতিমন্ত্রী পেDirectory মাসানি জানান, স্যাটেলাইট সার্ভিসের ক্ষেত্রে কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। স্টারলিঙ্ক, জিও স্যাটকমে (Jio Satcom) ও এয়ারটেল-সমর্থিত ওয়ানওয়েব—তিন সংস্থাই সুরক্ষাবিধি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) নিরাপত্তা ছাড়পত্রের একই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। |
| রিলায়েন্স জিও | বিষয়টিতে সরাসরি আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও জানা গিয়েছে, রিল্যায়েন্স নিজস্ব ‘সোভারেন লো-আর্থ’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা মাস্কের স্টারলিঙ্কের প্রত্যক্ষ প্রতিযোগী। |
মাস্কের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ এবং রাহুল গান্ধীর সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই কথোপকথন ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং কর্পোরেট রাজনীতির অন্দরে চরম তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।


