বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা গণনাকেন্দ্র। নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপত্র ছাড়া ঢোকার সাধ্যি নেই কারও। আর সেই স্ট্রং রুম থেকে ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার ইতি ঘটাল প্রারম্ভিক ফল। উপনির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ডে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—রাজ্যের দুই হাই-প্রোফাইল আসনেই বিপুল ভোটে এগিয়ে গেলেন বিজেপি প্রার্থীরা। বিরোধীদের বহুদূরে ফেলে জয় নিশ্চিত করার পথে দ্রুত এগোচ্ছেন দুই পদ্মপ্রার্থী হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার।
ভোটগ্রহণের দিনেই যে রাজনৈতিক আভাস মিলেছিল, গণনার সকালে তাতেই যেন সীলমোহর পড়ল। বিরোধীদের এজেন্টদের অনেকেই গণনাকেন্দ্রে অনুপস্থিত বা হতাশ হয়ে পড়ার চিত্র সামনে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ পরিবেশবান্ধব দুর্গাপুজো করলেই মিলবে ১ লক্ষ টাকা! বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার
ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড ও ব্যবধান (সর্বশেষ আপডেট):
গণনার প্রথম এক ঘণ্টা ও পরবর্তী রাউন্ডগুলির ট্রেন্ড অনুযায়ী দুটি আসনেই একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছে শাসকদল বিজেপি।
| বিধানসভা কেন্দ্র | শীর্ষস্থানাধিকারী বিজেপি প্রার্থী | নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী / বিরোধী দল | বর্তমান ভোটের মার্জিন (এগিয়ে) |
| নন্দীগ্রাম | হাসিরানি রথ | মিলন প্রধান (কংগ্রেস-তৃণমূল জোট) | ৯,০০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে |
| রেজিনগর | শাখারভ সরকার | মমতা তৃণমূল / এজেইউপি | ৩০,০০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে |
পোস্টাল ব্যালটের শুরুর তথ্য: বিরোধীরা ধুলিস্যাৎ
গণনা কেন্দ্রের প্রথম ঘণ্টার প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পোস্টাল ব্যালট থেকেই লিড বাড়াতে শুরু করেছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা:
-
নন্দীগ্রাম চিত্র: বিজেপির নিহত কর্মী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ শুরুতেই ১,০০০-এর বেশি পোস্টাল ভোট পেয়ে যান। সেখানে জোট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান পান মাত্র ১৮টি ভোট। মমতা তৃণমূল ৮টি, আইএসএফ ৭টি এবং বামেরা পান মাত্র ৩টি ভোট।
-
রেজিনগর চিত্র: মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই আসনে চমক দিয়ে বিজেপির শাখারভ সরকার ১০৩৩টি পোস্টাল ভোট পেয়ে শীর্ষে চলে যান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মমতা তৃণমূল পায় ১০৯টি ভোট, কংগ্রেস ৯৩টি এবং রেজিনগরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দল (AJUP) পিছিয়ে পড়ে মাত্র ৬৫টি ভোট পায়।
আরও পড়ুনঃ আশ্বাসের বাস্তবায়ন নাকি প্রশাসনিক দ্বন্দ্বে বন্দি রাজ্য? বাংলায় প্রায় ৬ মাসের বিজেপি সরকারের কাজের খতিয়ান ও রাজপথের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক সমীকরণ ও ফলাফল সংকেত
নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আসনটি ছেড়ে কলকাতার ভবানীপুর ধরে রাখায় উপনির্বাচন অনিবার্য হয়। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর নওদা আসন রেখে রেজিনগর ছেড়ে দিলে সেখানেও উপনির্বাচন হয়।
ভোটের দিন থেকেই হুমায়ুন কবীরের ছেলে তথা এজেইউপি প্রার্থী গোলাম নবী আজাদের হতাশার ছবি ধরা পড়েছিল। গণনাকেন্দ্রেও হুমায়ুনের দলের এজেন্টদের দেখা মেলেনি। প্রাথমিক ফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, শুভেন্দু সরকারের ৬ মাসের মেয়াদে এই ফল বিজেপির জনপ্রিয়তায় সিলমোহর দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরে চরম বিপর্যয় ডেকে আনল।


