বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, কাঠমান্ডু:
গত অগস্ট মাসের ভয়াবহ বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি। তার আগেই ফের হিমালয়ের কোলে প্রাকৃতিক তাণ্ডব। আকাশে এক ফোঁটা বৃষ্টি নেই, আবহাওয়া সম্পূর্ণ শুকনো—অথচ রবিবার সকালে হঠাৎই পাহাড়ি নদী থেকে নেমে আসা আগ্রাসী জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেল নেপালের একাধিক জনপদ। ধস নেমে তৈরি হওয়া একটি কৃত্রিম হ্রদ বা ‘অস্থায়ী লেক’ ফেটে যাওয়ার ফলেই এই আকস্মিক হড়পা বান (Flash Flood) নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রসংঘকে উপযুক্ত জবাব দিলো ভারত; বিক্ষোভে রাষ্ট্রসংঘকে ‘নাক না গলানোর’ পরামর্শ
কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়?
নেপালের জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (National Disaster Risk Reduction & Management Authority) সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে হঠাৎই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান বুড়ি গণ্ডকী নদী ফুঁসে উঠেছে এবং পাহাড় থেকে বিপুল জলস্রোত ধেয়ে আসছে।
-
কারণ: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত রাতে পাহাড়ের কোনো অংশে বড় ধরনের ধস (Landslide) নেমে নদীপথে একটি অস্থায়ী লেক বা হ্রদ তৈরি হয়েছিল। রবিবার ভোরে সেই জলের অস্বাভাবিক চাপে হ্রদের বাঁধ ভেঙে হড়পা বান নামে।
-
এলাকা: মূলত নেপালের গোর্খা অঞ্চলের সালেরি এলাকায় এই হড়পা বানের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
হঠাৎ এই জলপ্রলয়ে নদীপারের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী যে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে:
-
নদীর পাড়ে অবস্থিত অন্তত ৩৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে।
-
জলের তোড়ে ভেসে গেছে ১টি লোহার ব্রিজ এবং ২টি সাসপেনশন ব্রিজ।
-
এছাড়া এই হড়পা বানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বুড়ি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-ও।
উদ্ধারকাজ ও সতর্কতা:
ঘটনার পরেই নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে হেলিকপ্টার। এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও গোর্খা, ধাদিং, চিতোয়ান এবং তানাহুন জেলার নদী-পারের বাসিন্দাদের জন্য কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভোটেকোশী নদীর হড়পা বানের মর্মান্তিক স্মৃতি উসকে দেওয়ায় পাহাড়ি এই অঞ্চলে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


